পেনাল্টি কেন নেননি ভিনি-ম্যাচ শেষে জানালেন আসল কারণ
ব্রাজিলের বিদায়ের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি পেনাল্টি! নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতেই পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারাইস। এরপর ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ মিশনও শেষ হয়েছে তাদের। তাইতো সেই গোল মিস এখন বড় আলোচনার অনুসঙ্গ!
গোল মিসের চেয়েও বেশি প্রশ্ন উঠেছে, টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কেন স্পটকিকটি নেননি। ম্যাচ শেষে সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। তার দাবি, সিদ্ধান্তটি ছিল প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির।
ম্যাচের ১২ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার ওপর ফাউলের পর ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথমে বল হাতে নিয়ে স্পটের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি বল তুলে দেন ব্রুনো গিমারাইসের হাতে। পরে ব্রুনোর নেওয়া শট ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস পরিষ্কার করে জানান, ‘কোচ ম্যাচ শুরুর আগেই পেনাল্টি কে নেবেন, সেটা ঠিক করে দেন। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমার মধ্যে কখনোই কোনো দম্ভ ছিল না। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে হবে, এমন কোনো ভাবনাও ছিল না। এ কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছিল। ও আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি মারে, তাই কোচ ব্রুনোকে বেছে নেন। তবে আমি কখনো দায়িত্ব এড়াইনি।’
পেনাল্টি নিতে অনীহা ছিল-এমন ধারণাও উড়িয়ে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবে আমি পেনাল্টি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর পাত্র নই। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ যখন আমাকে বেছে নেন, আমি পেনাল্টি নিই। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং সামনের ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।’
ব্রুনোর সঙ্গে পেনাল্টির আগে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার কারণ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। তার দাবি, সেখানে কোনো বিতর্ক ছিল না, বরং কোচের নির্দেশনাই অনুসরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ব্রুনোর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে মিডফিল্ডারের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, একটি পেনাল্টি মিস যেন তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে আড়াল না করে।
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও জানিয়েছেন, পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম আগে থেকেই টেকনিক্যাল স্টাফ ঠিক করে রেখেছিল। তার মতে, দলে সেরা পেনাল্টি টেকারদের তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন নেইমার, এরপর ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া এবং ব্রুনো গিমারাইস। ওই সময়ে প্রথম তিনজন মাঠে না থাকায় দায়িত্ব পড়ে ব্রুনোর ওপর। মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুনোকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছিল।
পরিসংখ্যানও এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভিনিসিয়ুস ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে ১৩টিতে গোল করেছেন। ব্রাজিলের হয়ে তার নেওয়া তিনটি পেনাল্টির একটিতে এসেছে গোল। অন্যদিকে গিমারাইসের ক্যারিয়ারে এটি ছিল মাত্র চতুর্থ পেনাল্টি। আগের তিনটি সফল হলেও ব্রাজিলের জার্সিতে ম্যাচ শুরুর আগে কখনো স্পটকিক নেননি তিনি!



























