মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১২, ১০ মার্চ ২০২৬

ঈদ কেনাকাটায় ফ্রিজ বিক্রিতে উচ্ছ্বাস, ক্রেতার পছন্দে ওয়ালটনের আধিপত্য

ঈদ কেনাকাটায় ফ্রিজ বিক্রিতে উচ্ছ্বাস, ক্রেতার পছন্দে ওয়ালটনের আধিপত্য
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস ঘিরে দেশজুড়ে আবারও জমে উঠেছে উৎসবের বাজার। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পোশাক, জুতা ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি পণ্যের পাশাপাশি এবারও গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্স বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ কেনায় বেড়েছে ক্রেতাদের আগ্রহ। 

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রমজান শুরুর পর থেকেই পরিবারে খাদ্য সংরক্ষণ, ইফতার ও সেহরির প্রস্তুতি, অতিথি আপ্যায়ন এবং ঈদ-পরবর্তী ব্যবহার সব মিলিয়ে নতুন ফ্রিজ কেনার প্রবণতা বাড়ে। এই মৌসুমী চাহিদার কেন্দ্রেই রয়েছে দেশের ইলেকট্রনিক্স খাতের অন্যতম পরিচিত এবং নাম্বার ওয়ান রেফ্রিজারেটর ব্র্যান্ড ওয়ালটন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়ালটন প্লাজা ও পরিবেশক শোরুমে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেট, ফেনী, নরসিংদী, বগুড়া ও অন্যান্য জেলা শহরের শোরুমগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে বিক্রয়-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

তাদের ভাষ্য মতে, ক্রেতারা এখন শুধু “একটি ফ্রিজ” কিনতে চান না; তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, নান্দনিক ডিজাইনের এবং প্রযুক্তিসম্পন্ন এমন একটি পণ্য খুঁজছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারযোগ্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবাও নিশ্চিন্ত রাখবে। এই চাহিদার জায়গাতেই ওয়ালটন নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
 
রমজানে ফ্রিজের চাহিদা বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ বলেন, রমজান মাসে পরিবারভিত্তিক খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

ইফতার ও সেহরির জন্য আগে থেকে খাবার প্রস্তুত রাখা, ফল, দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, হিমায়িত খাদ্য এবং রান্না করা খাবার নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য বড় বা উন্নতমানের ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভূত হয়। ফলে এই সময়ে বহু পরিবার পুরোনো ফ্রিজ পরিবর্তন করে নতুন ফ্রিজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই প্রতিবছরই রমজানে ফ্রিজের চাহিদা ও বিক্রি বৃদ্ধি পায়।  

ওয়ালটন ফ্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার তাহসিনুল হক বলেন, ঈদ মৌসুমে বরাবরই ফ্রিজের বিক্রি বেশ ভালো হয়। এর পেছনে তিনি যুক্তি দেখান- অনেক ক্রেতাই নতুন ফ্রিজ কেনার জন্য ঈদের আগের সময়টাকে বেছে নেন। 

কেননা এই সময়ে বেতন, বোনাস মিলিয়ে ক্রেতাদের কাছে বাড়তি টাকা থাকে। তাই বাংলাদেশে রোজা ও কোরবানির ঈদকে ফ্রিজ বিক্রির প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারা বছরের মোট ফ্রিজ বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি বিক্রি হয় এই সময়টাতে। 

তিনি জানান, বরাবরের মতো এই রমজানেও গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে দেশের নাম্বার ওয়ান রেফ্রিজারেটর ব্র্যান্ড ওয়ালটন। মূলত উন্নত প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স, ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা এবং আধুনিক কিচেনের সঙ্গে মানানসই ডিজাইনের কারণে ওয়ালটন ফ্রিজেই বেশিরভাগ ক্রেতা আস্থা রাখছেন। 
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়ালটনের ফ্রিজে অ্যাডভান্সড এআই ও আইওটি সমৃদ্ধ ফিচার যুক্ত হওয়ায় আধুনিক ব্যবহারকারীদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি ওয়ালটন ফ্রিজে এআই ডক্টর, আইওটি, এমএসও ইনভার্টার টেকনোলজি, ডুয়াল টেম্পারাচার কন্ট্রোল, হলিডে/টারবো/সুপার মোড, এ্যাইট-ইন-ওয়ান কনভার্টিবল মোড, ২১.৫-ইঞ্চি ডিসপ্লে, রিভার্সিবল ডোর, ওয়াটার ডিসপেনসার ইত্যাদি সব স্মার্ট ও আধুনিক ফিচার সংযোজন করা হয়েছে। 

এসব সুবিধা আধুনিক ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রিজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে, বিশেষত যাঁরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও লাইফস্টাইল-ভিত্তিক ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকে সামনে রেখে গৃহস্থালি প্রস্তুতিতে যখন নতুন ফ্রিজ কেনার প্রবণতা বাড়ছে, তখন প্রযুক্তি, ব্যবহারিক সুবিধা এবং বাজার-সম্মত দামের সমন্বয়ে ওয়ালটন নিজেকে বরাবরই শক্তিশালী অবস্থানে তুলে ধরছে। দেশীয় উৎপাদনভিত্তিক একটি ব্র্যান্ড হিসেবে এটি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়; বরং বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পের সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ফ্রিজ গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ওয়ালটন। সারাদেশে চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৩ এর ‘নেক্সট লেভেল ডিল’ অফারের আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম অথবা অনলাইনে ফ্রিজে কিনে ক্রেতারা ওয়ালটন ব্র্যান্ডেরই সর্বাধুনিক ডিজাইন ও ফিচার সমৃদ্ধ সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য ফ্রি ও নিশ্চিত উপহার পাচ্ছেন।

এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রতিদিনই দেশজুড়ে অসংখ্য ক্রেতা ফ্রি পণ্যসহ নিশ্চিত উপহার পাচ্ছেন। এছাড়াও, এই রমজানে ওয়ালটন প্লাজার ‘সংযমে সাশ্রয়’ ক্যাম্পেইনের আওতায় রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারে ১০% ছাড় পাচ্ছেন ক্রেতারা। 

গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ওয়ালটন প্লাজা বা অনলাইনে ফ্রিজ ক্রয়ে এই বিশেষ ছাড় পাবেন ক্রেতারা। পাশাপাশি চলতি মাসের ৬ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত ‘ঈদ ও উইকেন্ড স্পেশাল’ অফারের আওতায় অনলাইনে ওয়ালটনের নির্দিষ্ট মডেলের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার ১৮% পর্যন্ত ছাড়ে কেনা যাচ্ছে। 

ওয়ালটনের রেফ্রিজারেশন ক্যাটাগরিতে ডাইরেক্ট কুল, নো-ফ্রস্ট, ফ্রিজার, বেভারেজ কুলার এবং আপকামিং মডেলসহ একাধিক সেগমেন্ট রয়েছে। ব্র্যান্ডটি বিভিন্ন আয়ের ক্রেতাকে লক্ষ্য করে ৫০ লিটার থেকে শুরু করে ৬৬০ লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার ৩’শতাধিক মডেল নিয়ে বাজার সাজিয়েছে। এসব ফ্রিজের দাম পড়বে ১৫,৬৯০ টাকা থেকে ২,৪০,০০০ টাকার মধ্যে।

সর্বশেষ