রোববার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যাহার চান প্রধান প্রকৌশলী

জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যাহার চান প্রধান প্রকৌশলী
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অব্যবহৃত পাইপ গোপন টেন্ডারে আওয়ামী লীগ নেতার কাছে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের প্রত্যাহার চেয়েছেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সই করা একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবরে পাঠানো হয়। 

চিঠিতে বলা হয়, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রকাশিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়গুলো সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওই দপ্তরের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ দা) মো. আলী আজগরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার জন্য প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল অনুরোধ জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব মালামাল নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলের নেতৃত্বে বিএনপি সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী টেন্ডার বাতিলের আশ্বাস দিয়ে পরদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন।

ঠিকাদারদের দাবি, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজের লাইসেন্সে নিলামে বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু এ তথ্য গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব আপেল বলেন, নোয়াখালীবাসীর কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অফিসের লোকজন গোপনে পানির দামে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে লোকজন অফিস রেখে পালিয়ে যান। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পরে ওই টেন্ডার বাতিলের আশ্বাসও দেন নির্বাহী প্রকৌশলী। আমরা এর বিচার চাই।

এ ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী আজগর তদন্তে নোয়াখালী যান। সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে নোয়াখালী সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারের গোডাউনে গিয়ে কিছু পাইপ পাওয়া যায়। জানা গেছে, রাতের আঁধারে অনেক মালামাল সরিয়ে নেওয়া হলেও আলোচনায় আসার পর বাকি কিছু পাইপ এখনো সরানো সম্ভব হয়নি।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

সর্বশেষ