বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ৪ জুন ২০২৬

মাদক ও ছিনতাইয়ের ছায়ায় নারায়ণগঞ্জ: আতঙ্কে পথচারী, উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা

মাদক ও ছিনতাইয়ের ছায়ায় নারায়ণগঞ্জ: আতঙ্কে পথচারী, উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও অপরাধ চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, অস্ত্র ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি ফতুল্লার দেওভোগ এলাকায় যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ মণ গাঁজা, ১০ থেকে ১২ হাজার ইয়াবা, বিপুল নগদ অর্থ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে বাধার ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন সময় অভিযানে গেলে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের মার্চ মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় কথিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক অভিযান চালাতে হয়েছে পুলিশকে।

মে মাসে বন্দর এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের একটি দল হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন এবং তাদের কাছ থেকে একটি সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

শহরের নিতাইগঞ্জ, চাষাঢ়া, ফতুল্লা, কুতুবপুর, জালকুড়ি, সানারপাড় ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকরা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর অনেক সড়কে নিরাপত্তাহীনতা অনুভূত হয়। বিশেষ করে শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে অপরাধী চক্রগুলো এসব এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ও ছিনতাই দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান নয়, মাদক সরবরাহ চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত টহল জোরদার এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

শিল্প ও ব্যবসার নগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জকে নিরাপদ রাখতে এখন সমন্বিত উদ্যোগের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অন্যথায় মাদক ও ছিনতাইয়ের বিস্তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সর্বশেষ