মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:১২, ২২ জুন ২০২৬

পঞ্চগড়ে পিআইওর ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

পঞ্চগড়ে পিআইওর ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও বিল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বরাদ্দের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করতেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে কমিশন নির্ধারণ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথনের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে বাবুল চন্দ্র রায়কে ক্যালকুলেটর হাতে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের ওপর ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব করতে দেখা যায়।

ভিডিও অনুযায়ী, এক ইউপি সদস্যের ৮ টন গমের প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা চলাকালে পিআইও বলেন, “৩২ হাজার ইন্টু ৮, হয় ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা আসে।” জবাবে ওই সদস্য কমিশনের পরিমাণ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “স্যার, ৩৮ হাজার টাকা অনেক বেশি। কাজের তো লাভও হয়নি।”

এ সময় পিআইওকে বলতে শোনা যায়, “মেম্বারদের কোনোদিনই লাভ হয় না। এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।”

অন্য এক প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পে ১৮ হাজার টাকা কমিশনের হিসাব করতে দেখা যায়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে কমিশনের পরিমাণ নিয়ে দরকষাকষি করতেও শোনা যায়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একাধিক প্রকল্পের হিসাব কষে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ নগদ অর্থ গুনে দিচ্ছেন। পুরো ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় দাবি করেন, “তারা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এসব কথা হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।”

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, “বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। আমি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করব। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়