মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ১৭ আগস্ট ২০২৬

বগুড়ায় মহাসড়কের জায়গায় বিএনপির অফিস

বগুড়ায় মহাসড়কের জায়গায় বিএনপির অফিস
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে সেখানে ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। মহানগরীর তিনমাথায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সংলগ্ন জায়গায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে টিনশেড ঘর তৈরি করে সেখানে মহানগর ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস করছেন না। তারা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে ও অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া মহানগরীর তিনমাথা রেলগেটের পাশে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কার্যালয় সংলগ্ন সওজের প্রায় পাঁচ শতক জায়গা রয়েছে। সেখানে সবুজ রঙের টিনশেড হাফওয়ালের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরের সামনে মহানগর ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে।

এর আগে সওজের ওই জায়গা সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপির লোকজন দখল করে তাদের কার্যালয় নির্মাণ করেছিল। গত ২০০৩ সালে সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিলে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের নির্দেশে ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের দলীয় লোকজন সেখানে ঘর নির্মাণ করে। পরে সওজ বিভাগ ঘরটি উচ্ছেদ করে। গত ২০২২ সালে আবারও সেখানে ঘর নির্মাণ করা হলে সওজ থেকে ভেঙে দিয়ে মহাসড়ক সম্প্রসারণ করে। এভাবে অন্তত ছয়বার কার্যালয়টি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপি আবারও জায়গাটি দখল করে তাদের কার্যালয় নির্মাণ করে। এদিকে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা দেন। ওই জায়গাটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়। এরপর মহানগর বিএনপির ১৫নং ওয়ার্ড কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে টিনশেড ঘর নির্মাণের পর সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, সওজের পরিত্যক্ত জায়গায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ছিল। তারেক রহমানের নির্দেশে গত ২০০৫ সালে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে কয়েকবার চেষ্টা করেও সেখানে কার্যালয় করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেখানে পুনরায় অফিস করা হয়। বর্তমানে জায়গাটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এখন জায়গাটিতে ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিলনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওই জায়গা থেকে অফিস সরিয়ে নেওয়া হবে।

সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, সেখানে বিভিন্ন সময় ছয়বার অফিস করা হলেও প্রতিবারই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের অফিসের কারণে সওজের ক্ষতি বা সমস্যা হলে অফিসটি সরিয়ে নেওয়া হবে।

বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সরকারি জায়গায় দলীয় অফিস নির্মাণ করা যাবে না, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। সেখানে যারা অফিস করেছে, তাদের সরিয়ে নিতে বলা হবে।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, সওজের জায়গায় কেউ কোনো স্থাপনা করতে পারবে না। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর

সর্বশেষ

জনপ্রিয়