বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটে কুকুরের জলাতঙ্ক টিকাদান কর্মসূচি শুরু

বাগেরহাটে কুকুরের জলাতঙ্ক টিকাদান কর্মসূচি শুরু
ছবিঃ প্রতিনিধি

বাগেরহাটে কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ ও গৃহপালিত কুকুরকে টিকা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বাগেরহাট পৌরসভা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং ভ্যাকসিনেশন বিশেষজ্ঞ ও ডগ এক্সপার্ট টিমের সদস্য সায়মনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তীব্র আকার ধারণ করায় পৌর কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কার্যক্রমটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ফেনী থেকে আগত অভিজ্ঞ ‘ডগ এক্সপার্ট টিম’-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে বাগেরহাট পৌরসভা। টিমের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকার প্রতিটি অলিগলি ও জনবহুল স্থান থেকে কুকুর শনাক্ত করে সতর্কতার সঙ্গে টিকা প্রদান করবেন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এই উদ্যোগের পেছনে বাগেরহাটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান কাজ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেছেন। এই পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নীরব সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ডগ এক্সপার্ট টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যদি পৌর এলাকার প্রতিটি কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনা যায়, তবে কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে। তবে কার্যক্রমকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত মনিটরিং এবং পর্যায়ক্রমিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে জেলাজুড়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত টিমগুলোর কার্যক্রম চলাকালীন সাধারণ নাগরিকরা যেন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করেন এবং প্রয়োজনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়