মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জানুয়ারিতে অর্থনীতির গতি কমেছে

জানুয়ারিতে অর্থনীতির গতি কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি কমেছে। জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সামগ্রিক পিএমআই সূচক ডিসেম্বরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৩ দশমিক ৯–এ দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বরে এই সূচকের মান ছিল ৫৪ দশমিক ২। তবে সূচক কমলেও নির্মাণ ও সেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এ পিএমআই সূচক প্রকাশ করছে। দেশের অর্থনীতির প্রধান চারটি খাত অর্থাৎ কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাত নিয়ে প্রতি মাসে এই পিএমআই ইনডেক্স প্রকাশ করা হচ্ছে। পিএমআই সূচকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বর্তমানে উচ্চ খরচ ও নগদ অর্থের সংকট ব্যবসার ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। সার্বিকভাবে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি দুর্বল ও অনিশ্চিত।
কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে খরচ বেড়েছে, বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায় বড় উদ্বেগ হিসেবে কাজ করছে। যার ফলে অর্ডার স্থগিত, বিনিয়োগে অনীহা এবং ক্রেতাদের সতর্ক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মৌসুমি প্রভাব ও আমদানির কারণে কিছু খাতে চাহিদা আরও কমেছে।

তবে মার্চ মাসের পর বা নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সার্বিকভাবে সর্বশেষ পিএমআই সূচকগুলো ইঙ্গিত করে অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি কমেছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বল পুনরুদ্ধার এবং সতর্ক অর্ডার প্রদান উৎপাদন খাতের রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে অর্থনীতির সব প্রধান খাতে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ সামনে টেকসই আশাবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি : নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাস অর্থাৎ গত ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এরও এক মাস আগে গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির এ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। জানুয়ারির ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। 

মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ : নতুন বছরের জন্য প্রণীত মুদ্রানীতি আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অর্থের জোগান, সুদের হার কাঠামো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে সহায়তার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান নীতিকৌশলের ধারাবাহিকতায় এবারও মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই থাকবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতিগত সুদের হার কমানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এ কারণে আগামী ছয় মাসেও বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান কড়াকড়ি বা সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে। সর্বশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার নির্ধারণ করা হয় ৮ শতাংশ। মূলত টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাওয়ার পর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন। 

সর্বশেষ