শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনার অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ফিউচার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৭০.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত বুধবারও উভয় সূচকে দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল, যা ৩০ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়বে।

নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়ুক—এমন পরিস্থিতি চান না। সামরিক পদক্ষেপ হলেও তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে কয়েকটি বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তেহরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরান তাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলি হামলার স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেছে দেশটি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালিও বন্ধ ছিল।

একই সময়ে জেনেভায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দুই দিনের শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।

বাজার সূত্র বলছে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে। যদিও পূর্বাভাস ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে মজুত ২.১ মিলিয়ন ব্যারেল বাড়বে। আজ মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যা বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।