সুরকন্যা আহমাদ মায়া’র পিএইচডি ডিগ্রি লাভ
পিএইচডি ডিগ্রি পেলেন সংগীত শিল্পী আহমাদ মায়া আখতারী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সংগীত বিভাগ হতে "কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী গানের সুর " বিষয়ে মাস্টার্স অব ফিলোসোফি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আহমাদ মায়া আখতারী। সুরকন্যা মায়া নামেই সমধিক পরিচিত। দেশের শুদ্ধ সংগীত চর্চা ও বিকাশে নিবেদিতদের মধ্যে অন্যতম তিনি। দেশীয় সংস্কৃতি লালনে নিরবে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে আহমাদ মায়া'র অবস্থান জ্বাজ্জল্যমান।
আহমাদ মায়া'র ধমনিতেই সুরের মূর্ছনা। তার দাদা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোলার জালাল উদ্দীন আহমাদ এবং বাবা রাজশাহী শহরে নির্মিত একাত্তরের স্মৃতিস্তম্ভ "স্মৃতি অম্লান" নকশা ও বাস্তবায়নকারী বরেণ্য স্থপতি রাজিউদ্দীন আহমাদ। দুজনেই সঙ্গীতজ্ঞ।
আবার, নানা রংপুরের এসডিও আবদুল মান্নান এবং মা স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক হাবিবা আখতারী ধ্রুপদী সংগীতে ছিলেন অনন্য। তাই, বাবা ও মায়ের পরিবার থেকে শিশু বয়সেই পেয়েছেন তালিম। আহমাদ মায়া'র পাঁচ বোনই সংগীতে পারদর্শী। শিশু বয়সে মায়ের কাছেই সংগীতে হাতে খড়ি। শিখেছেন বাবা, চাচা ও ফুফুদের কাছেও।
রাজশাহীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৪ মার্চ আহমাদ মায়া আখতারী’র জন্ম। আহমাদ মায়া’র স্বামী মোফাজ্জল হোসেন তারিক রফতানীযোগ্য তৈরী পোষাক শিল্পে উচ্চ পদে চাকরি করেছেন। একমাত্র সন্তান আবু ইয়াসিন সাবিক রুধির কানাডা’র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
জন্মের পরই পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন মায়া।
পড়াশোনা করেছেন ধানমন্ডির কাকলি উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বেগম বদরুন্নেসা মহিলা মহাবিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিশু বয়স থেকেই সঙ্গীত ও খেলাধুলায় অসংখ্য পুরুস্কার পেয়েছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে অনার্স ও মার্স্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ থেকে ডক্টর মৃদুলকান্তি স্যারের তত্বাবধানে নজরুল সংগীতের ওপর এমফিল ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত শিক্ষা শুরু বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে (বাফা)। প্রথম পাঁচ বছর নজরুল সংগীত এবং পরের পাঁচ বছর রবীন্দ্র সংগীতের কোর্স সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করেছেন। এসময় তিনি তালিম নিয়েছেন বেদার উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, ইয়াকুব আলী খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, রশিদুন নবী, তপন মাহমুদ ও মহাদেব ঘোষের মত গুণী শিক্ষকদের।
আহমাদ মায়া আখতারী নজরুল ইনষ্টিটিউট পরিচালিত নজরুল সঙ্গীতের প্রথম ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন। সেখানে ওস্তাদ হিসেবে সান্নিধ্য পেয়েছেন নজরুল সঙ্গীতের দুই দিকপাল ওস্তাদ সুধীন দাস ও ওস্তাদ সোহরাব হোসেন এর। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে নজরুল ইনষ্টিটিউট আয়োজিত বিশেষ কোর্স “শুদ্ধ সুর ও বাণীতে নজরুল সঙ্গীত প্রশিক্ষক কোর্স” সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছেন।
নজরুল সঙ্গীতের পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ওপর তালিম নিয়েছেন শিল্পকলা একাডেমি, ছায়ানট ও ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা অয়োজিত কোর্স ডান্স এন্ড মিউজিক টিচিং সেন্টার (ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা) থেকে ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত গুরু সূচনা বৃহস্পতি এবং ড. সরায়ু কালাকার এর কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে “গুরু-শিষ্য পরম্পর” তালিম নিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত শ্রী সারথী চ্যাটার্জীর কাছে, ২০১০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত অর্নব চ্যাটার্জী এবং শ্রী সৌরভ কুমার নাইয়ারের তত্ববধানে তালিম নিয়েছেন।
আহমাদ মায়া আখতারী বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্পেশাল গ্রেডের শিল্পী। একই সাথে বিভিন্ন বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশনে নজরুল, রবীন্দ্র, আধুনিক পল্লীগীতি পরিবেশন করছেন। তিনি নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ ও রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আজীবন সদস্য। ১৮ জুলাই ২০২৫ সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ক্লাব মিলনায়তনে তাঁর একক সঙ্গীতানুষ্ঠান "মায়াবী সন্ধ্যা" দর্শকদের বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কর্ম জীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন আহমাদ মায়া আখতারী। উত্তরার কাচপুরা ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে কর্ম জীবনের সূচনা করেন। এরপর লাইসিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলে শিক্ষতা করেছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “দিল্লী পাবলিক স্কুল” ডিপিএস শিক্ষকতা করছেন। একই সাথে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকতা করছেন।
আহমাদ আখতারী মায়া আজীবন শুদ্ধ সুর আর সঙ্গীত চর্চা এবং সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করতে চান। সম্পৃক্ত থাকতে চান কল্যাণময় সকল কাজে।



























