মানিকগঞ্জে জেনারেল হাসপাতালে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গিয়ে এক গৃহবধূ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন—শাহাদাত হোসেন (২৯), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং আবু সাঈদ (২৫), কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। রোববার দুপুরে তারা ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে রাস্তায় থাকার চেয়ে হাসপাতাল চত্বরকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে তারা মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আশ্রয় নেন।
সেই সময় ডিউটিরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে দম্পতিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা গৃহবধূর স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিচতলায় আটকে রাখেন এবং গৃহবধূকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গণমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, “নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে এসে আমাকে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, আনসার পোশাকধারীরা ভয় দেখিয়ে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে যায় এবং এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।



























