রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

ডিআইইউ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

সাময়িক বহিষ্কারাদেশের পর ক্ষমা প্রার্থনা করে শো–কজের জবাব দিলেন ডিআইইউ শিক্ষার্থী

সাময়িক বহিষ্কারাদেশের পর ক্ষমা প্রার্থনা করে শো–কজের জবাব দিলেন ডিআইইউ শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) এক শিক্ষার্থী গ্রন্থ বৈদ্য ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত শো–কজ জবাব ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

গ্রন্থ বৈদ্য ডিআইইউ’র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি তার লিখিত দরখাস্তে উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, অনুচিত ও অসচেতন ছিল। তিনি তার এই আচরণকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে স্বীকার করেছেন।

দরখাস্তে তিনি বলেন, মন্তব্য করার সময় তার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ইসলাম বা ধর্মীয় অনুভূতিকে অসম্মান করা ছিল না। তবে এখন তিনি উপলব্ধি করেছেন যে তার মন্তব্য সংবেদনশীলতা-বিহীন ও অনভিপ্রেত, যার ফলে মানসিক কষ্ট ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি গভীর অনুতপ্ত এবং এটিকে নিজের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুতর শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

গ্রন্থ বৈদ্য আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়ম-কানুন, আচরণবিধি ও নৈতিক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন। তিনি লিখিত আবেদন শেষে সাময়িক বহিষ্কার পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সুযোগের আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গ্রন্থ বৈদ্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল এবং তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শো–কজ জবাব ও ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের পর্যালোচনার মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে ডিআইইউ ক্যাম্পাসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এখনো তীব্রভাবে চলমান। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।

জনপ্রিয়