রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদ মানেই দীর্ঘ ছুটি, অবসর সময়ের যেন কোনো ত্রুটি নেই। ঈদ মানে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠা, আর হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে কিছু মূল্যবান সময় কাটানো।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই ঈদকে ঘিরে সবার মাঝেই থাকে অধীর আগ্রহ ও আনন্দের অনুভূতি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা যেন একটু বেশি।
কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে বছরের বেশিরভাগ সময় পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের থেকে দূরে থাকতে হয়। একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে হরহামেশা বাড়ি ফেরা হয়ে ওঠে না।
তাই বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি যখন ঈদুল ফিতরে আসে, তখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দূর-দূরান্তে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় আপন ঠিকানায়।
পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে বাড়ি ফেরাই হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।তাদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন সংবাদ পরিক্রমার রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধি মোঃ ইউসুব আলী।
ঈদ আমাদের ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়।
ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা ও মিলনের এক পবিত্র উপলক্ষ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে নিয়ে আসে নতুন খুশির বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। ঈদের সকাল শুরু হয় নামাজ আদায় ও আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপনের মাধ্যমে। এরপর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কোলাকুলি করা-সব মিলিয়ে চারদিকে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে আমাদের অনেক সময় বাড়ি ফেরা হয় না। তাই ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। এই সময়টাতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায়।ঈদ শুধু আনন্দের দিনই নয়, এটি মানবিকতারও শিক্ষা দেয়। জাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে আমরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাই। তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।
ঈদ আমাদের ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়। তাই সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই ঈদের পরিপূর্ণতা। ঈদ হোক সবার জীবনে শান্তি, সুখ ও কল্যাণের বার্তা বয়ে আনার এক মহিমান্বিত দিন।
(লেখক: শাকিল হোসেন, শিক্ষার্থী,সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।)
ঈদ উদযাপনে অপসংস্কৃতিকে না বলি
পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। ছোট বড় সব ধরনের মানুষ এই ঈদ আনন্দে অংশগ্রহণ করে।কিন্তু নিজে আনন্দ করার, পরিবার প্রিয়জন আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সাথে আনন্দ ভাগ করার, অভাবীর মুখে হাসি ফোটাবার উপলক্ষ ঈদ যেন অর্থ হারিয়েছে অনেকের জীবনে কিছু ভুল কাজ বা অপসংস্কৃতির কারণে।
শহরে কিংবা গ্ৰামে ঈদকে কেন্দ্র করে আতশবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের পটকা বাজি ফোটানোর পাল্লা চলে। চোখ ধাঁধানো আলো আর কান ফাটানো শব্দে কিছু মানুষ আনন্দ পেলেও বৃহৎ পরিসরে নানান ক্ষতির কারণ হয় এসব বাজি।
আকাশে উড়তে থাকা পাখির অনেক ক্ষতি হয় প্রতিবছর এই আতশবাজি ফুটানোর কারণে অনেক পাখি মারা যায়। ঈদ এলেই অফারে স্মার্টফোন , আরো বিভিন্ন ধরনের ভোগ্য পণ্য কিনার অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। সীমিত আয়ের মানুষ, বিশেষত চাকুরিজীবীরা তাদের ঈদ বোনাসের টাকাটাই শুধু খরচ করে ফেলে না, ০% ইএমআই-এর টোপে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন কেউ কেউ।
আবার এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় ট্যুর দেয় যার ফলে ঈদে প্রিয়জনের কাছে আসতে পারা মানুষদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয় প্রচুর ভিড় আর যানজটের কারণে অনেকে আসতে পারেনা।
তাই আমাদের উচিত উচ্চস্বরে গান-বাজনা, বাজি ফোটানো, অতিরিক্ত অপব্যয় এবং বেহায়াপনা বর্জন করে, আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন, গরীবের হক আদায় (যাকাত-ফিতরা) দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঈদ আনন্দ উপভোগ করা উচিত।
(লেখক: হুমাইরা সুলতানা মল্লিক, শিক্ষার্থী ,মনোবিজ্ঞান বিভাগ)
ঈদ হোক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক বিশেষ উপলক্ষ।
আমার কাছে ঈদ মানে শুধু নতুন পোশাক বা আনন্দের দিন নয়, বরং এটি নতুনভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সময়। রমজান মাস আমাদের ধৈর্য, সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। সেই সাধনার শেষে ঈদ যেন মনে এক বিশেষ প্রশান্তি এনে দেয়। ঈদের সকালটাও অন্য দিনের মতো নয়-চারদিকে উৎসবের আবহ, মানুষের মুখে হাসি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের ব্যস্ততা।
কলেজ জীবনের পড়াশোনা, পরীক্ষা ও নানা দায়িত্বের ভিড়ে অনেক সময় নিজের মানুষদের সঙ্গে ঠিকভাবে সময় কাটানো হয়ে ওঠে না। তাই ঈদের ছুটিটা আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান। এই সময়টাতে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে।
আমার কাছে ঈদের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো-মানুষে মানুষে সম্পর্ক আরও কাছাকাছি হওয়া। এই দিনে পুরোনো অভিমান ভুলে গিয়ে সবাই একে অপরের খোঁজ নেয়। সমাজের যাদের জীবন কঠিন, তাদের কথা মনে রাখা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। তখনই ঈদের আনন্দ সত্যিকার অর্থে পূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই ঈদ হোক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক বিশেষ উপলক্ষ।
(লেখক: তাবাসসুম তোড়া ,শিক্ষার্থী,সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)
শৈশবের সঞ্চিত ঈদ স্মৃতি
ঈদ মানে ছোটবেলার সেই আনন্দঘন সকাল। নতুন জামা, রঙিন মিষ্টি আর বাবার সঙ্গে বাজারের হাঁটা মনে পড়ে আজও। বন্ধুদের সঙ্গে খেলার মুহূর্তগুলো যেন এখনো চোখের সামনে নাচে। বড় হয়ে যাওয়ায় সেই সরল আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন খুশি-বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা, পরিবারের সঙ্গে ঈদের ভোজ আর ভিডিও কলের হাসি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই নিজের ঈদের ছবি ভাগ করছে, আর আমি ভাবছি, শৈশবের সেই সরল হাসি এখনো কোথাও যেন চুপচাপ রয়েছে। ঈদ শুধু রোজা ভাঙার দিন নয়, এটি স্মৃতি, আনন্দ আর ভালোবাসার মিলনের দিন। সারাদিন ঘরে-ঘরে খুশির আওয়াজ, মিষ্টির স্বাদ, গল্প আর হাসি-সব মিলিয়ে ঈদ যেন এক পূর্ণতার অনুভূতি।
(লেখক: মোঃ মোশারফ হোসেন, শিক্ষার্থী,ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ)
ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে
ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর ভাগাভাগির এক অপূর্ব উৎসব।সারা বছরের অপেক্ষার পর যখন ঈদ আসে, তখন চারদিকে খুশির জোয়ার বয়ে যায়।নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময়-সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ হয়ে ওঠে পূর্ণতা পায়।
কিন্তু এই আনন্দ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না।আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের কাছে ঈদের দিনও সাধারণ দিনের মতোই।নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে অনেক সময় সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য থাকে না।
এতিম শিশুদের কষ্ট তো আরও গভীর, তাদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো আপনজনও থাকে না।এই বাস্তবতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে, আমাদের মানবিকতাকে প্রশ্ন করে।ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, দান এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো।
এ আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল মানুষরা যদি একটু এগিয়ে আসেন,তাহলে অসহায় মানুষের মুখেও ফুটতে পারে হাসি।একটি নতুন পোশাক, সামান্য খাবার কিংবা আন্তরিক সহানুভূতিই পারে তাদের ঈদকে রাঙিয়ে তুলতে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আশেপাশের অসহায় ও এতিমদের পাশে দাঁড়াতে।কারণ ঈদ কেবল নিজের জন্য নয়, ঈদ সবার জন্য।এই ঈদে আমাদের প্রত্যাশা-ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে।
(লেখক:উম্মে ফাতেমা তুজ জোহুরা, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)
ঈদুল ফিতর আনন্দ ও উৎসবের বার্তা
ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আসে। এক মাস রোজা রাখার পর এই দিনে সবার মুখে হাসি ফোটে। সকালবেলা মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সবাই একত্রে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
পরিবার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের সঙ্গে মিষ্টি ও আনন্দ ভাগাভাগি করা এই দিনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। নতুন পোশাক পরিধান, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পছন্দের মিষ্টি খাওয়া ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে।
ছোট শিশুদের উপহার দেওয়া এবং তাদের খুশি দেখে বড়দের মনও আনন্দে ভরে ওঠে। এই দিনে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অনুভব করি, শুধু খাওয়া-দাওয়া নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য প্রকাশই ঈদের মূল আনন্দ। প্রতিটি মুহূর্তে মিলনের আনন্দ ও সহমর্মিতা যেন আমাদের জীবনকে আলোকিত করে।
সত্যিই, ঈদ আমাদের মনে শান্তি ও আনন্দের অনুভূতি নিয়ে আসে, যা সারা বছরের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
(লেখক: সোহেল রানা,শিক্ষার্থী,বাংলা বিভাগ)



























