বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইবির শহীদ আনাস হলের একই রুমের চার বন্ধু একসাথে বার কাউন্সিল ভাইভায় উত্তীর্ণ

ইবির শহীদ আনাস হলের একই রুমের চার বন্ধু একসাথে বার কাউন্সিল ভাইভায় উত্তীর্ণ
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হলের ২১২ নম্বর কক্ষ— যার নাম তারা নিজেরাই রেখেছিলেন ‘ল চেম্বার’। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের চার বন্ধু— আশহাদুল ইসমাম, শামীম হোসেন, মেজবা আলম সরকার ও আলমগীর হোসাইন ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে একই কক্ষে ওঠেন। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রস্তুতির ফলস্বরূপ এবার তারা একসাথেই অর্জন করেছেন এই সাফল্য।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এই চার বন্ধু। রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবারের ভাইভায় মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

একই ২১২ নম্বর কক্ষে বসে পড়াশোনা, গ্রুপ স্টাডি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন তারা। ফলে একসাথে ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও গর্বের আবহ।

আলমগীর হোসাইন জানান, তারা নিয়মিত পড়াশোনা বজায় রাখতেন এবং প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ার চেষ্টা করতেন। নিজেদের মধ্যে গ্রুপ করে পরীক্ষা নেওয়া ও আইনের কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার অভ্যাস ছিল। অনেক জটিল বিষয় সিনিয়রদের সহায়তায় বুঝে নিতেন বলেও জানান তিনি।

মেজবা আলম সরকার জানান, শুরুতে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করলেও পরে হলে উঠে ২১২ নম্বর কক্ষেই তাদের যাত্রা শুরু হয়। আইন বিভাগের পাশাপাশি কোর্টে যাতায়াত এবং একজন আইনজীবীকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া— সব মিলিয়ে তাদের লক্ষ্য আরও দৃঢ় হয়। একসাথে থাকার কারণে একজন পড়তে বসলে অন্যরাও উৎসাহ পেতেন, যা তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।

শামীম হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে হল চালুর পর তারাই প্রথম আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ওই কক্ষে ওঠেন। একই বিভাগের হওয়ায় তারা যেমন আড্ডা দিয়েছেন, তেমনি সময়মতো পড়াশোনাও করেছেন। গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে আইনের জটিল বিষয়গুলো সহজ করার চেষ্টা করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রথমবারেই অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জন করা।

আশহাদুল ইসমাম বলেন, ২০১৯ সালে হল চালু হলেই আমরা হলে উঠি। শুরু থেকেই আইনের ছাত্র হিসেবে আমাদের লক্ষ্য ছিলো প্রথমবারেই অ্যাডভোকেশীপের সনদ পাওয়া। তাদের ২১২ নম্বর কক্ষটি ছিল সেশনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। আড্ডা, আনন্দ ও পড়াশোনা— সবকিছুই সমানতালে চলত। শামীম ডিপার্টমেন্টে প্রথম হওয়ায় পড়াশোনার পরিবেশ আরও শক্তিশালী ছিল। হল ছেড়ে ঢাকায় চলে আসার পরও তাদের যোগাযোগ অটুট রয়েছে। ফল প্রকাশের পর সবার আগে রুমমেটদের খবর নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

চার বন্ধুর এই যৌথ অর্জন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে বিশেষ উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। বন্ধুত্ব, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে শহীদ আনাস হলের ২১২ নম্বর কক্ষের এই গল্প।

জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, অনার্সের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সার্টিফিকেট তুলে দ্রুত ইন্টিমেশন জমা দেওয়া জরুরি। ইন্টিমেশন জমার পর নির্ধারিত সময় পূর্ণ হলেই পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়া যায়। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বার কাউন্সিলের সিলেবাস সম্পন্ন করা এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্র ও প্যাটার্ন বুঝে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। পাশাপাশি আইনের জটিল বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে সিনিয়রদের সহায়তা নেওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন। তাদের মতে, একজন আইন শিক্ষার্থীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথমবারেই অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জন করা।