বাকৃবির মাওলানা ভাসানী হলে নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাওলানা ভাসানী হলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টায় হলের কমনরুমে হল প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. জি এমন মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইএফএস পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, প্রফেসর মুহাম্মদ হোসেন কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জি. এইচ.এম সাগর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি। উপস্থিত ছিলেন হলের হাউজ টিউটরবৃন্দ। এছাড়া হলের শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ ও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। হল সূত্রে জানা যায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মোট ৮৬জন শিক্ষার্থী আবাসন প্রাপ্ত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শৃঙ্খলা, নিয়মিত পড়াশোনা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মজিবুর রহমান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ থেকে ৪৮ বছর আগে আমিও তোমাদের মতো একজন নবীন শিক্ষার্থী ছিলাম। আজ তোমারা সেখানে। তোমারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনে তারা পাশে থাকবে।’
তিনি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের রাজনীতি হতে হবে ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো বিষয়ে জোর বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কাউকে কোনো কাজে বাধ্য বা জোর করতে নিরুৎসাহিত করেন।’
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য নবীনদের অনুপ্রাণিত করা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না; সফল হতে হলে অধ্যবসায়ের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। তাহলেই তারা একদিন তাদের সিনিয়রদের মতো সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ হল থেকেই অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত কিছুটা ভোগান্তি কমাতে মাওলানা ভাসানী হলে নতুন ১০টি বেড সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য উক্ত অনুষ্ঠানে হলের ৬জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ব্যাংক, বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে সুপারিশ প্রাপ্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।



























