বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি
রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী (১২-১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ নজরকাড়া পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং বাস্তবমুখী প্রয়োগের ভিত্তিতে যবিপ্রবিকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলায় দেশের পাবলিক ও প্রাইভেটসহ ৭৩টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শত শত গবেষক ও উদ্ভাবক অংশ নেন। সেখানে পরিবেশবিদ্যা, কৃষি প্রযুক্তি, মাইক্রোবায়োলজি এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের ওপর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন প্রদর্শন করে যবিপ্রবি। মেলায় যবিপ্রবি থেকে প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের পরিচালিত ‘ন্যানো ইউরিয়া’ গবেষণা প্রকল্প। প্রচলিত ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে কৃষকের ব্যয় ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ন্যানো ইউরিয়ার সম্ভাবনা এবং কার্যকারিতার প্রশংসা করেন গবেষকরা।
উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “এই অর্জন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী অগ্রযাত্রার এক অনন্য মাইলফলক। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম এবং বিশ্বমানের গবেষণার ফলেই জাতীয় পর্যায়ে এই শুভ বার্তা এসেছে। শিল্প খাতের সাথে অ্যাকাডেমিক গবেষণার সেতু বন্ধন তৈরিতে এই ধরনের স্বীকৃতি আমাদের আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
এ সাফল্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিক্ষা ও গবেষণায় উচ্চমান নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জাতীয় মেলায় যবিপ্রবির এমন অনন্য অর্জন প্রমাণ করে যে আমাদের তরুণ গবেষকরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই সাফল্য যবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই সফলতায় ভূমিকা রাখার জন্য। ”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আর্থিক ও কাঠামোগত সহায়তার বিকল্প নেই। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখবে। তাঁদের এই দেশ সেরা সাফল্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে গর্বিত করেছে। এই সফলতা যবিপ্রবি পরিবারের, এই সফলতা সকলের। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ”
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি প্রতিনিধি দলের হাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই অর্জনে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে।



























