মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৬ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধের পথে ৮৬ বেসরকারি পলিটেকনিক

শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধের পথে ৮৬ বেসরকারি পলিটেকনিক
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থী সংকটে ধুঁকছে দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ভর্তি বাড়াতে বারবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী করতে মাইকিংসহ নানা প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এসব উদ্যোগেও মিলছে না প্রত্যাশিত সাড়া। এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থী ভর্তির চিত্র শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না পাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ৮৬টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের। টানা তিন বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়েও শিক্ষার্থী সংকট কাটাতে না পারায় এবার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

তালিকায় রয়েছে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট ৮৬টি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র পাঠিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এতে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে তাদের পাঠদান অনুমোদন বা স্বীকৃতি কেন প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বোর্ডের চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী বি এম আমিনুল ইসলামের সই করা তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, বোর্ডের নীতিমালার ৪.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত অবকাঠামো, ফলাফল, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত যথাযথভাবে পালন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করার ক্ষমতা বোর্ডের রয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিল করা হবে। এ বিধান অনুসরণ করেই শিক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বোর্ডের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৮৬টি বেসরকারি পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বছরের পর বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়াতে দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জনবহুল স্থান, হাট-বাজার এবং আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। মূলত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ভর্তি বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

তবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা সচেতনতা বাড়াতে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। অনেক এলাকায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে; লিফলেট বিলি করেছে; কিন্তু সাড়া মিলছে না। আমরা নতুন পরিকল্পনা করছি, কীভাবে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণায় বিষয়টি আনা যায়, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।’

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়