ইউক্রেনের হামলায় বিদ্যুৎহীন রাশিয়ার সাড়ে ৫ লাখ মানুষ
ইউক্রেনের হামলার পর রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি পানি ও গরম তাপের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো রাতভর কাজ করছে।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়, ইউক্রেনীয় হামলার ফলে বেলগোরোদ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ গ্লাদকভের তথ্যমতে, অন্তত ৫ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।
গভর্নর জানান, শুক্রবার ভোররাতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে মেরামত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় গ্লাদকভ আরও জানান, ছয়টি পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই হাজার আবাসিক ভবনে কেন্দ্রীয় গরম ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে এবং প্রায় দুই লাখ মানুষ পানি সংকটে ভুগছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার শহর বেলগোরোদ নিয়মিত ড্রোন ও রকেট হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার সকালে বেলগোরোদে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে তা মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে, যা বিদ্যুৎ ও তাপহীন মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
টেলিগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কিছুক্ষণ পরই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রই ছিল হামলার মূল লক্ষ্য।
রাশিয়া আগেও অভিযোগ করেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে একই রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ড্রোন হামলা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এর আগে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত গ্রিড ধ্বংস করাই রাশিয়ার হামলার প্রধান উদ্দেশ্য।



























