তালিকা দ্রুত প্রকাশ না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
দীর্ঘ এক বছর পাঁচ মাস পরেও আহত জুলাইযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরি না হওয়া এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, নতুন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আহতদের সঠিক তালিকাভুক্তি না হওয়ার পাশাপাশি, পুলিশ সদস্যদের হাতে তাদের যাচাইয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই আহতদের গুলি করেছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "আহত যোদ্ধারা কান্না করে আমাকে বলেছে, যে পুলিশ সদস্যরা তাদের গুলি করেছিল, সেই পুলিশই সদস্যরাই এখন তাদের যাচাই করতে ডেকেছে। এটা কি ধরনের কাজ হতে পারে?"
তিনি আরও বলেন, "তালিকাভুক্তির জন্য শুরু থেকেই অনেক সমস্যা ছিল। প্রথম দিকে ১৪৮৫ জন আহত যোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করা হয়, কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে তালিকা বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এমআইএস কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।"
তামিম খান অভিযোগ করেন, অনেক আহত যোদ্ধা যারা দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তারা এখনও তালিকার বাইরে আছেন। "তালিকাভুক্তির জন্য কোনো সরকারি ঘোষণা বা নির্দেশনা ছিল না, ফলে অনেক আহত যোদ্ধা বাদ পড়েছেন," বলেন তিনি।
এছাড়াও, তামিম জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ২০০০ থেকে ২৫০০ আহত যোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করা হয়। কিন্তু তিন মাস পরেও সেই তালিকার গেজেট করা হয়নি।
তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, তালিকাগুলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর, পুলিশকে আহতদের যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তামিম বলেন, "যে পুলিশ সদস্যরা আহতদের গুলি করেছেন, তাদেরই এখন যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক এবং নৈতিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত।"
তিনি আরও জানান, ভেরিফিকেশনের নামে আহতদের কাছ থেকে নানা প্রশ্ন করা হচ্ছে, তাদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ, সহযোদ্ধাদের পরিচয়, সাক্ষী সংগ্রহসহ নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আহত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। তামিম খান জানান, ৩২ জন সাংবাদিকের দরখাস্ত পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৪ জন প্রকৃত আহত জুলাই যোদ্ধা। তবে, এখনও তাদের তালিকাভুক্তি হয়নি।
তামিম খান জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারির মধ্যে যদি যাচাই-বাছাই কমিটি পাঠানো তালিকা অনুযায়ী এমআইএস ও গেজেট প্রকাশ না করে, তাহলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, "এবার শুধু পদত্যাগের দাবি নয়, দায়িত্বে অবহেলা করলে উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করানো হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, আহত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি।



























