ভারতে গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রেস্তোরাঁ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এবার ভারতের সাধারণ নাগরিকদের উপর পড়তে শুরু করেছে। এক ধাক্কায় রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ১১৫ টাকা। দেশের অন্যান্য বড় শহরের মতোই এর প্রভাব পড়ছে কলকাতা ও শিলিগুড়িতেও। গ্যাসের সংকটে একাধিক রেস্তোরাঁ ও হোটেলের কিচেন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কমার্শিয়াল গ্যাসের ঘাটতিতে ব্যবসায়ীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। ইতিমধ্যেই ভারতের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ফেডারেশনের তরফে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বিভিন্ন গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই কমার্শিয়াল গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে শিলিগুড়ির বহু হোটেল ও রেস্তোরাঁয় উদ্বেগ বাড়ছে। গ্যাসের অভাবে অনেক রেস্তোরাঁ ও হোটেলের কিচেন বন্ধ হয়ে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে কৌশিক সরকার জানিয়েছেন, “কেন্দ্রের নির্দেশিকার কারণেই আমরা কাউকে কমার্শিয়াল গ্যাস দিতে পারছি না। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে ফোন আসছে, কিন্তু আমরা নিরুপায়। আমাদের হাতে কিছু করার নেই।”
অন্যদিকে শিলিগুড়ির এক হোটেল মালিক নির্মল সাহা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যেটুকু স্টক আছে তাতে হয়তো আর দু’দিন হোটেলের কিচেন চালানো যাবে। তারপর বন্ধ করে দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কোনও উপায় নেই।”
হোটেল মালিক সংগঠনের তরফে উজ্জ্বল ঘোষও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে বহু মানুষের রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি নিয়ে আমরা জরুরি বৈঠকে বসছি।”
এদিকে কলকাতাতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটের জেরে সমস্যায় পড়েছে শহরের নামী বিরিয়ানি চেইনগুলি। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় কাঠের উনুনে বিরিয়ানি তৈরির কথাও ভাবছে সংস্থাগুলি। তবে সে ক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অনুমতি লাগবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি ব্রাঞ্চ সাময়িকভাবে বন্ধ করার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, সেখানে আজ সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১০টি। ফলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।



























