হরমুজে ‘মধ্যস্থতাকারী’ পাকিস্তানের জাহাজ আটকে দিলো ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার প্রণালি অতিক্রমের সময় ‘সেলেন’ নামের ওই জাহাজটি আটক করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, পাকিস্তানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজটি শারজাহ থেকে করাচি-র উদ্দেশে যাত্রা করছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় জাহাজটিকে আটকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আটকের পর জাহাজের ক্যাপ্টেন ও ক্রুদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাহাজটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ‘সেলেন’কে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং বিকল্প পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী জাহাজটি পিছু হটে।
আইআরজিসি তাদের বার্তায় জানায়, “আইনি প্রোটোকল না মানা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ার কারণে জাহাজটিকে পিছু হটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক প্রতিটি জাহাজকে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।”
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে—বাড়ছে তেলের দাম, বিঘ্নিত হচ্ছে সরবরাহ।
অন্য দেশের তুলনায় পাকিস্তানের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। প্রতিবেশী হওয়ায় ইরান ও পাকিস্তান—উভয় দেশই নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলে আসছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে মনোনীত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইসলামাবাদ।
এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের একটি জাহাজ আটকের ঘটনা নতুন করে কূটনৈতিক সমীকরণে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: এএফপি



























