সোমবার ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২৩ মার্চ ২০২৬

২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের রেকর্ড

২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে, যার প্রভাব শত শত থেকে হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

সংস্থাটির প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন “স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট”-এ বলা হয়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১টি বছরই ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ঘটেছে। ২০২৫ সাল রেকর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছর, যেখানে তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “বৈশ্বিক জলবায়ু এখন জরুরি অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীকে তার সীমার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি প্রধান সূচকই লাল সংকেত দেখাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “টানা ১১টি উষ্ণতম বছর কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এটি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট আহ্বান।”

প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ বা শক্তির ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সূর্য থেকে আগত শক্তি ও পৃথিবী থেকে নির্গত শক্তির মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব অন্তত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সংস্থাটি জানায়, ১৯৬০ সালের পর থেকে এই ভারসাম্যহীনতা ক্রমাগত বেড়েছে এবং ২০২৫ সালে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত তাপের ৯১ শতাংশের বেশি সমুদ্রে জমা হচ্ছে। ফলে ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রাও নতুন রেকর্ড গড়েছে। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হ্রাস, কার্বন শোষণ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শক্তিশালী ঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে।

এছাড়া অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড-এর বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে আর্কটিক মহাসাগর-এর বরফের বিস্তৃতি ছিল উপগ্রহ যুগের সর্বনিম্ন বা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ১৯৯৩ সাল থেকে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা প্রায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির এই ধারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে বর্তমানে বৈশ্বিক আবহাওয়া লা নিনা প্রভাবে রয়েছে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নিরপেক্ষ অবস্থা তৈরি হতে পারে এবং বছরের শেষে এল নিনো ফিরে আসতে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালে আবারও উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে।