হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সবুজকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম সোমবার পৃথক দুই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি।
হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসা. রীনা বেগম গত বছরের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সবুজ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় সবুজের ভাই মনির হোসেন গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম গত বছরের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এই মামলাতেও শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ২১ জন পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



























