খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস ও নগদ আদায় বাড়াতে ঋণ খেলাপিদের জনসম্মুখে লজ্জিত করার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে, ঋণখেলাপিরা যেন আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বিদেশ যেতে না পারেন।
গত বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই বিস্তারিত প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে এবিবি। এই প্রস্তাবনাগুলোর মূল লক্ষ্য খেলাপি ঋণ কমানো এবং নগদ আদায় বৃদ্ধি করা। খেলাপি ঋণ কমাতে এবিবি নানা দাবি তুলেছে। এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই দাবি তোলা হয়েছে। এই চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি চেয়েছে। এ ছাড়া ঋণখেলাপিরা যাতে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, এ দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
এবিবির প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো, খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন চাওয়া।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি বিতরণ করা মোট ১৮ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ।
জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা এবং মার্চে ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। মূলত ঋণ শ্রেণিকরণের কঠোর নিয়ম এবং আগে লুকিয়ে রাখা ‘খারাপ’ ঋণগুলো হিসাবের আওতায় আনার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এতটা বেড়েছে।
এবিবি খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞারও আহ্বান জানিয়েছে। তবে আদালত বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে স্পষ্ট অনুমতি থাকলে সেক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবিবির এই পদক্ষেপকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে আমরা বিদেশি ব্যাংক এবং এমনকি সংসদেও খেলাপিদের নাম প্রকাশ করতে দেখেছি। এটি একটি যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।’
ঋণ খেলাপিরা কীভাবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যারা ঋণ খেলাপি, তারা কীভাবে অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বা নীতিনির্ধারণী সেমিনারে যোগ দিতে পারেন? রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মসূচি থেকে তাদের বাদ দেওয়া উচিত। আমাদের এটিকে আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবেও মোকাবিলা করতে হবে।’



























