রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের টোল দুর্নীতি, প্রতিবেদন জমা আজ

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের টোল দুর্নীতি, প্রতিবেদন জমা আজ
ছবি: সংগৃহীত

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলের শত কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত রয়েছে।

র‌বিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক একাধিক মন্ত্রী, আমলা ও একটি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

​দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত এই অনুসন্ধানী মামলার পূর্ব নির্ধারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ছিল গত ২৩ জুন। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থের তছরুপের অভিযোগ আনা হয়।

​মামলাটির প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

এছাড়া আমলা ও প্রকৌশলীদের মধ্যে সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান এবং মো. আব্দুস সালামের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী এবং ইকরাম ইকবালকেও এতে আসামি করা হয়।

​নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে একক উৎস থেকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল সংগ্রহের কাজ দেওয়া হয়। চুক্তির আওতায় নির্ধারিত ফি প্রদান না করে আদায়কৃত মোট টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে সিএনএসকে দেওয়ার নিয়ম করা হয়, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকা তুলে নেয়। অথচ পূর্বে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এমবিইএল-এটিটি নামীয় প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউডিসি কনস্ট্রাকশনকে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে ৫ বছরে মাত্র ১১২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া সিএনএসকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়