বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৪৬, ১ জানুয়ারি ২০২৬

অস্থিরতার বছর পেরিয়ে প্রত্যাশার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

অস্থিরতার বছর পেরিয়ে প্রত্যাশার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক রূপান্তরের নানা বাঁক পেরিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলো আরও একটি বছর—২০২৫। অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার বোঝা কাঁধে রেখে নতুন আশায় এগিয়ে আসছে ২০২৬। নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজজীবনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা তুঙ্গে। বিশেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণ।

নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তপ্ত রাজনীতি

২০২৫ সালজুড়ে দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয় ছিল জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, আন্দোলন-সমাবেশ এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ ও সুপারিশ রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের দাবিতে বছরজুড়েই রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল উত্তপ্ত।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উঠে আসে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় বিভিন্ন মহল। নতুন বছর ২০২৬-এ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ ফিরবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠে।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

অর্থনৈতিক দিক থেকে ২০২৫ সাল ছিল বেশ কঠিন। মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে। তবে এর মধ্যেও কৃষি উৎপাদন, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতায় কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে। সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রিজার্ভে ঘুরে দাঁড়ানো

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী আয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই আয় শুধু জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করে না, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নেও সরাসরি অবদান রাখে।

সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি ডিসেম্বর মাসের ২৯ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এর ফলে ডলার সংকট কিছুটা কমেছে। ৩১ ডিসেম্বর দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায় এবং ২০২১ সালের আগস্টে তা সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও চলতি হিসাব ঘাটতির কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়।

সমাজজীবনে নতুন প্রত্যাশা

সামাজিক খাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তরুণ সমাজের বড় অংশ দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, স্টার্টআপ সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ আগামী দিনের বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।

নতুন বছরের দিকে তাকিয়ে

২০২৬ সাল তাই কেবল একটি ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের নাম নয়; এটি হতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিদায় ২০২৫—তোমার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাগত ২০২৬, যেখানে আশা, দায়িত্ব ও সম্ভাবনার নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

জনপ্রিয়