নতুন বছরে ক্যাম্পাস নিয়ে যবিপ্রবিয়ানদের প্রত্যাশা
নতুন বছর মানে নতুন সূচনা, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এক নতুন যাত্রা শুরু করা।
২০২৬-এর প্রারম্ভে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যাম্পাসকে ঘিরে নতুন আশা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা যবিপ্রবি বর্তমান সময়ে দেশের আধুনিক শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে স্বতন্ত্র স্থান অর্জন করেছে।
তারপরও শিক্ষার্থীরা চান নতুন বছরে যবিপ্রবি আরও উন্নত, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী-বান্ধব হয়ে উঠুক।
গবেষণাবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার প্রত্যয় প্রত্যাশা করে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির খন্দকার বলেন, আমি মনে করি ক্যাম্পাসের আয়তন বৃদ্ধি পেলে ল্যাব, মেশিনারিজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। জব ফেয়ার, ইন্টার্নশিপ সুযোগ ও স্টার্টআপ সাপোর্ট আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও গবেষণার জন্য স্টাইপেন্ড চালু হওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার জন্য কাউন্সেলিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, ফি কমানো ও অসহায়দের জন্য ফি মওকুফ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সেবা, আবাসন ও পরিবহন সুবিধা আরও উন্নত হলে যবিপ্রবি দেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
সুশৃঙ্খল ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হামিমা হিমু বলেন, ভাঙা ফুটপাতগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত বসার জায়গা এবং হল ক্যান্টিন সুবিধা বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে। সর্বোপরি আমি চাই ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত হোক।
ফার্মেসি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে আনিকা আক্তার জয়া বলেন, ক্যাম্পাসটি হোক আরও প্রাণবন্ত, সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশের কেন্দ্র। শিক্ষার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে পড়াশোনা, সৃজনশীল চর্চা ও ব্যক্তিগত বিকাশে মনোনিবেশ করতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক আরও আন্তরিক হোক এবং শেখার পরিবেশ হোক আরও আনন্দময়। যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন গড়ার ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির আদর্শ স্থান হয়ে উঠুক, এটাই আমার প্রত্যাশা।
নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার দাবি প্রত্যাশা করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম মিনহাজ বলেন, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ক্যাম্পাসের আয়তন বৃদ্ধি, মেডিকেল সেন্টার ২৪/৭ চালু রাখা এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব সুবিধা, হল, পরিবহন, ডাইনিং ও স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান করা উচিত। ছাত্র সংসদ সক্রিয় হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মতামত জানানোর একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন।
উদ্ভাবন ও নৈতিকতার চর্চাকেন্দ্র প্রত্যাশা করে ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী কবিরুল ইসলাম বলেন, আমি চাই যবিপ্রবিতে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক এবং শেখার পরিবেশ শুধুই বইবন্দি না থেকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য হয়ে উঠুক। আধুনিক ল্যাব, শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন, সহশিক্ষা কার্যক্রম, নেতৃত্ব বিকাশ, মানসিক বৃদ্ধির সুযোগ ও নৈতিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী হোক। ক্যাম্পাস হোক নিরাপদ, সবুজ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার কেন্দ্র।
শিক্ষার্থীদের এতো আশা-আকাঙ্ক্ষা একটাই বার্তা দেয় যে সম্ভাবনায় ভরপুর যবিপ্রবি একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। নতুন বছরে যবিপ্রবি সেই সম্ভাবনার দুয়ার আরও উন্মুক্ত করবে, এমন প্রত্যাশাই করছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।



























