বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৫, ১ জানুয়ারি ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা শহরজুড়ে আতশবাজি

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা শহরজুড়ে আতশবাজি
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক চললেও রাজধানী ঢাকায় সেই শোকের আবহ অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে আতশবাজি ও পটকার শব্দে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে পটকা ও আতশবাজি ফোটাতে দেখা গেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত পেরিয়ে নতুন বছরের প্রথম প্রহর শুরু হতেই, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি রাত ১২টার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার প্রায় সর্বত্র বিকট শব্দে পটকা ফাটানো এবং আকাশজুড়ে আতশবাজির ঝলকানি দেখা যায়। খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে শুরু হয় এই উদযাপন।

প্রতি বছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করে ডিএমপি। তবে এবার পরিস্থিতি ছিল আরও সংবেদনশীল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার থেকেই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্বিঘ্নেই পটকা ও আতশবাজি ফাটানো হয়েছে। এতে শোকের পরিবেশের বদলে এক ধরনের উৎসবমুখর চিত্র ফুটে ওঠে ঢাকার আকাশে।

নগরীর একাধিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আতশবাজির আলোয় রাতের আকাশ হয়ে ওঠে রঙিন, আর পটকার শব্দে প্রকম্পিত হয় চারপাশ। যদিও আগের বছরের তুলনায় এবার ফানুস ওড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল।

অনেক এলাকায় রাত ১১টার আগেই পটকা ফাটানো শুরু হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও উদ্বেগ তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উচ্চ শব্দ শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শোক পালনকালীন সময়ে এমন শব্দদূষণকে তারা অনভিপ্রেত ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, শোক চলাকালীন ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র‍্যালি কিংবা শোভাযাত্রা আয়োজনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এছাড়া উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে—এমন সব কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে এসব নির্দেশনা কার্যত অমান্য হওয়ায় আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শোকের সময় এ ধরনের আচরণ সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জনপ্রিয়