মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেয়াদ শেষের আগেই ‘লাল পাসপোর্ট’ ছাড়ছেন হাফ ডজন উপদেষ্টা!

মেয়াদ শেষের আগেই ‘লাল পাসপোর্ট’ ছাড়ছেন হাফ ডজন উপদেষ্টা!
ছবি: সংগৃহীত

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একঝাঁক শীর্ষ নীতিনির্ধারক তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বিদেশ ভ্রমণে সম্ভাব্য আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, তথ্য ও সম্প্রচার ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন।

এ তালিকায় আরও রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, সরকারের কয়েকজন সচিব এবং হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারপতি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারাও ইতোমধ্যে সাধারণ বা ব্যক্তিগত পাসপোর্টের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক। 

সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, দুই দিন আগে হোক বা পরে, এটা তাদের ছাড়তে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যে বা যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেয়েছেন, দায়িত্ব শেষ হলেই তাদের সেটা হস্তান্তর করতে হবে। তবে, এটা হস্তান্তর করার নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া নেই। এখন যারা উপদেষ্টা আছেন তিনি আজ পাঠালে কালই তার পাসপোর্ট হয়ে যাবে। কিন্তু উনি যখন উপদেষ্টা থাকবেন না, তখন কিন্তু আর গ্যারান্টি নেই। পাসপোর্ট অফিস তাকে কত দিনে পাসপোর্ট দেবে, সেটা কিন্তু বড় একটা বিষয়!

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) পর উনারা যখন আর দায়িত্বে থাকবেন না, তখন এয়ারপোর্ট ট্রাভেল করতে গেলে ইমিগ্রেশন এনওসি (অনাপত্তি সনদ) চাইবে। এনওসি না হলে তো অফিশিয়াল পাসপোর্টে যেতে পারবেন না। এ কারণে উনারা প্রাইভেট পাসপোর্ট করছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই উনাদের কারও কারও কোনো না কোনো দেশে যাওয়া লাগতে পারে। যারা মনে করছেন শিগগিরই তাদের ভ্রমণ করতে হতে পারে, তারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়ছেন।’

এদিকে, নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার গুঞ্জন নাকচ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। গতকাল রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,‘আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং ওটা বহাল আছে। এটা খুবই অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ থাকাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন! আমি এটা করিনি।’

তবে, অন্য সহকর্মীদের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো করছেন, কারণ দায়িত্ব শেষে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে।’ আগেভাগে আবেদন করে রাখলে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো সহজ হয়— মন্তব্য করেন তিনি। ‘ব্যাপারটা হলো যে, একটু সময় গেইন করা, যাতে তাদের পাসপোর্টটাও হয়ে গেল; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান, বি-টু ভিসা; সেটা কিন্তু বাতিল হয় না পাসপোর্ট বাতিল হলেও। কিন্তু তাদের তো নতুন পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। যদি যেতে হয়, আর কি!’

উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে, পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই পাসপোর্টের কার্যকারিতা বিশেষ নিয়মের অধীনে চলে আসে অর্থাৎ দায়িত্ব শেষে পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে হয়।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট