রোববার ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:২১, ৩০ আগস্ট ২০২৬

সম্পত্তি দিলেও বাড়ি ছাড়তে হবে না, সংসদে সংশোধনী বিল

সম্পত্তি দিলেও বাড়ি ছাড়তে হবে না, সংসদে সংশোধনী বিল
প্রতিকী ছবি

সম্পত্তি দান করার পরও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করতে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

প্রস্তাবিত আইন পাস হলে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি বা জীবনসঙ্গীর কাছে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রবীণ ব্যক্তিদের আবাসন ও জীবনযাপনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন **১২২ক ও ১২২খ ধারা** সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ‘আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানকে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে নাতি-নাতনিরাও তাদের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে। তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দান সম্পন্ন করতে হবে।

আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারিক অধিকার বজায় রাখতে পারবেন। ফলে সন্তান বা নিকট আত্মীয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও দাতা তার বসতবাড়ি বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।

প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। তবে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ অধিকার পরিবর্তন, সংশোধন বা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন এই বিধান প্রচলিত দান, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্যান্য বৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে বাতিল বা সীমিত করবে না। বরং এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক ও অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর হবে এবং সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

বিলটি বর্তমানে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি পাস হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে একদিকে উত্তরসূরিদের মালিকানা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দাতার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বসবাস ও ভোগদখলের অধিকারও আইনগত সুরক্ষা পাবে।

জনপ্রিয়