রয়টার্স এক্সক্লুসিভ
দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আমি দেশে ফিরতে, আদালতের মুখোমুখি হতে এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে প্রস্তুত।’
শ্রীলঙ্কা থেকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’
সাকিব জানান, তিনি অবিলম্বে দেশে ফিরতে চান। তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন।
বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সাকিব। এর পরদিন বাংলাদেশে তার খালি বাড়িতে হামলা হয়। সাকিব বলেন, তিনি শুধু শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
তিনি জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। তবে কোনো জবাব পাননি।
সাকিব বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী তিনি। তবে এ বিষয়ে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্রিকেট থেকে অবসর প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, তিনি খুব বেশি সময় অপেক্ষা করবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। খেলা উপভোগ করছি এবং ভালোও খেলছি। তবে বয়স এখন আমার পক্ষে নেই, তাই খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারব না।’
সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার জন্য বিমানে উঠেছিলেন তিনি। বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিতও করেছিলেন। তবে মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি না ১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল।’
সাকিব জানান, পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে ওই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে তিনি দুবাইয়ে নেমে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান। সেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি।
আরেকবার শেখ হাসিনার জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায় বলে জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘কীভাবে এটি আমাকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ হতে পারে, তা আমি বুঝতে পারি না।’
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে দূরত্ব তৈরি করলে দেশে ফেরার পথ সহজ হতে পারে এমন পরামর্শও প্রত্যাখ্যান করেছেন সাকিব।
তিনি বলেন, ‘এটি বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।’
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, অন্য ক্রিকেটারদের মতো সাকিবকেও নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা কমাতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
সাকিব জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায়, অন্যটি দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত অভিযোগে।
হত্যা মামলাটি দায়েরের সময় তিনি কানাডার টরন্টোয় একটি ম্যাচ খেলছিলেন বলে দাবি করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘এটি হাস্যকর একটি মামলা।’
তিনি আরও জানান, এখনো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি তিনি।
সাকিব বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্তের কারণে তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে কত টাকা আটকে আছে, তা তিনি জানাননি।
তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে সবচেয়ে বেশি কর দেওয়া খেলোয়াড়দের একজন আমি। সব ধরনের কর পরিশোধ করার পরও যদি দেড় বছর ধরে তদন্তের নামে হিসাব বন্ধ থাকে, তাহলে আমি প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিতে প্রস্তুত। তবে তদন্তে কিছু না পাওয়া গেলে তা ছেড়ে দিতে হবে।’
সাকিব আরও জানান, দুই বছর ধরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। তারা দেশ ছাড়তেও পারছেন না।
তিনি বলেন, ‘সবার জন্যই সময়টা কঠিন। তবে আমরা টিকে আছি।’



























