শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আনলেন জুমা

সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আনলেন জুমা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সদস্যদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে। 

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। পরে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলেন মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, যার অভিযোগের তীর ছিল সাদিক কায়েমদের দিকে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দিবাগত রাতে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ডাকসুর একাংশ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। 

সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানসহ কয়েকজন, যাদের সঙ্গে মূলত ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টদের দেখা যায়। তবে এতে অংশ নিতে পারেননি জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা, উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ অন্য সদস্যরা।

সর্বমিত্র চাকমা জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পারেন মূলত বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর লাইভ সম্প্রচার দেখে। তিনি ফেসবুকে লেখেন, তারা টিভির মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে।

এর কিছুক্ষণ পর ফাতিমা তাসনিম জুমা সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে বলেন, শহীদ মিনারে কখন ফুল দেওয়া হবে— এ বিষয়ে দুইবার জানতে চেয়েও স্পষ্ট তথ্য পাননি। পরে ফোনে তাকে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে কেবল সিনেট সদস্যরাই যাবেন।

 কিন্তু অল্প সময় পর তিনি দেখেন, ওই ‘সিলেক্টিভ পাস’ অন্য একটি দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীদেরও দেওয়া হয়েছে, অথচ ডাকসুর অনেক সদস্যই তা পাননি।

তিনি আরও বলেন, প্রভাতফেরীর আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করে এবং সে সংক্রান্ত চিঠি শুধু ভিপি, জিএস ও এজিএসের কাছে যায়। কিন্তু তারা অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। পরে তিনি নিজে ফোনে তথ্য জেনে গ্রুপে নোটিস দেন।

জুমার ভাষ্য, ডাকসুর পক্ষ থেকে সিনেট সদস্যরা ফুল দেবেন— এমন পরিকল্পনা থাকলে তা গ্রুপে জানানো যেত, অথবা নির্দিষ্ট সময়ে সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা যেত। এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হতো না এবং অন্য সম্পাদকদের ওপর দায়ও আসত না।

পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও যখন ডাকসুর প্রতিনিধিরাই পথ কঠিন করে তোলেন, তখন অন্যদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষে ডাকসুর শীর্ষ তিন নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার কারণে অন্য সদস্যদের কাজ জটিল হয়ে উঠছে। 

তার মতে, ডাকসু শিক্ষার্থীদের আমানত এবং সম্পাদক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়গুলো সহজ করলে তাকে এ ধরনের “সিলি ইস্যু” নিয়ে কথা বলতে হতো না।

সর্বশেষ