মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০৯, ২০ জুলাই ২০২৬

মেসিদের থামিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

মেসিদের থামিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে এক ছন্নছাড়া ফুটবলের প্রদর্শন দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলে রীতিমতো বস্তাবন্দি ছিলেন লিওনের মেসিরা। যদিও স্পেনের একের পর এক আক্রমণ একাই ঠেকিয়ে রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তবে শেষ পর্যন্ত গোল হজম করতেই হয়েছে আলবেসেলেস্তেদের। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ তম মিনিটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান ফেরান তোরেস। এই গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা উচিয়ে ধরল স্পেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলে। মাত্র পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে লা রোজা। লামিনে ইয়ামালের ক্রস থেকে বল দানি ওলমোর কাছে যায়। ওলমোর ফিরতি পাসে আবার বল পান ইয়ামাল, কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রতিরোধে আটকে যায়।

সপ্তম মিনিটে অবশ্য আর্জেন্টিনারও সুযোগ এসেছিল। লিওনেল মেসির সামনে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও দ্রুত এগিয়ে এসে উনাই সিমন সেই আক্রমণ নষ্ট করে দেন।

এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। প্রথম ২৩ মিনিটে বল দখলে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল তারা। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ—আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড়ও খুব কম সুযোগ পান।

৩৯ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ, রদ্রি ও বায়েনার সমন্বিত আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি হয়। ওয়ারজাবালের শক্তিশালী শট নিচে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এরপর ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁর জায়গায় নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। নিকোলাস গঞ্জালেজকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে মাঠে নামার পরপরই রদ্রিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। এরপর ওলমোর পাস থেকে তৈরি হওয়া আরেকটি সুযোগ গঞ্জালো মন্তিয়েলের ক্লিয়ারেন্সে নষ্ট হয়।

৬২ মিনিটে স্পেন মাঠে নামায় পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে। এরপরও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। পেদ্রির শট, ইয়ামালের প্রচেষ্টা এবং কুবারসির দূরপাল্লার শট—সবকিছুই ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। প্রথমে নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিল হয়। ৯৬ মিনিটে মেরিনোর শট মার্টিনেজ ঠেকালেও ফিরতি বলে উইলিয়ামস জালে বল পাঠান। তবে ওতামেন্দির ওপর মেরিনোর ফাউলের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোল বাতিল হয়।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর আর রক্ষা হয়নি আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে ফেরান তোরেস নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল পাঠান জালে। উইলিয়ামসের সহায়তায় পাওয়া সেই গোলই এনে দেয় স্পেনকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা।

বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ পর্যন্ত নায়ক হতে পারেননি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার অসাধারণ প্রতিরোধও থামাতে পারেনি স্পেনের আক্রমণ। আর মেসিদের সামনে থেমে যায় আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

জনপ্রিয়