মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪০, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্তিম মুহূর্তে নেমে আসে আর্জেন্টিনার জন্য চরম বিপর্যয়। স্পেনের দাপুটে ফুটবলের সামনে লড়াই করতে গিয়ে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে শেষ করতে হলো তাদের।

অতিরিক্ত সময়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে এনসো ফার্নান্দেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো আর্জেন্টিনাকে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ফাউল করার দায়ে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এনসো ফার্নান্দেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এই মিডফিল্ডারকে।

ম্যাচ চলাকালীন ৮২ মিনিটে রদ্রিকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। রেফারির এই সিদ্ধান্তে এনসো ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তা অপরিবর্তিত থাকে।

ফাইনালের এই লাল কার্ড আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক বড় আক্ষেপের নাম হয়ে রইল। ১৯৯০ বিশ্বকাপে পেদ্রো মনসন এবং গুস্তাভো দেজোত্তি লাল কার্ড দেখার পর এই প্রথমবার ফাইনালের মঞ্চে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে মাঠ ছাড়তে হলো। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখার তালিকায় এনসো ষষ্ঠ খেলোয়াড়।

এর আগে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাইয়ি, ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদান এবং ২০১০ সালে জন হেইটিঙ্গা এই কালো অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষেই লাল কার্ড দেখেছিলেন নেদারল্যান্ডসের হেইটিঙ্গা, ১৬ বছর পর সেই একই প্রতিপক্ষ স্পেনের বিপক্ষেই লাল কার্ডের পুনরাবৃত্তি হলো।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। পুরো ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে চাপ সামলাতে গিয়েই এই অঘটন ঘটে। যদিও নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাতিল করায় সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় তাদের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এর পরপরই ফেরান তোরেসের গোলটি তাদের স্বপ্নভঙ্গের চূড়ান্ত পরিণতি ডেকে আনে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডের তালিকা:

পেদ্রো মনসন (আর্জেন্টিনা): ১৯৯০

গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা): ১৯৯০

মার্সেল দেসাইয়ি (ফ্রান্স): ১৯৯৮

জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স): ২০০৬

জন হেইটিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস): ২০১০

এনসো ফার্নান্দেস (আর্জেন্টিনা): ২০২৬

জনপ্রিয়