রোববার ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন

কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন
সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হাওর বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট বোরো ধানের প্রায় অর্ধেকই হাওরাঞ্চল থেকে উৎপাদিত হয়। তবে কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে হাওরের মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রোববার সকালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

উপদেষ্টা আরও বলেন, হাওরাঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কৃষিতে কীভাবে বালাইনাশক ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত যে কোনো ঘোষণা এলে তা মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে হাওরে প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে। জমিতে পলির পরিবর্তে বালি জমছে, যা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব পরিবর্তনের জন্য মানুষ দায়ী।

অবৈধভাবে জাল ও বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরার সমালোচনা করে ফরিদা আখতার বলেন, “কিছু দুষ্টু মানুষ এভাবে মাছ শিকার করছে, যা উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাওরে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক পরিবেশের ক্ষতি করছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের কষ্টের কথা তারা বোঝে না। পাশাপাশি ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মাণে যথেষ্ট ব্রিজ ও কালভার্ট না থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে মাছের চলাচল সহজ হবে এবং সবাই উপকৃত হবেন।

ইজারা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, কিশোরগঞ্জ হাওরে বর্তমানে ৪৫টি ইজারামুক্ত জলাশয় ও ৩১২টি ইজারাকৃত জলাশয় রয়েছে। সরকার চায় একমাত্র প্রকৃত মৎস্যজীবীরাই ইজারা পাবে। এ লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পরে তিনি গাবতলী ব্রিজসংলগ্ন ইটনা হাওরে ৫৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. আব্দুল্লা আল মামুন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইটনার মো. স্বপন মিয়া, মিঠামইনের মো. আজিজুল হক এবং অষ্টগ্রামের মো. কাকন মিয়া।

সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাওর অঞ্চলের অসংখ্য মৎস্যজীবী সভায় অংশ নেন।

সম্পর্কিত বিষয়: