শুক্রবার ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২ জানুয়ারি ২০২৬

ফুলবাড়ী সীমান্তে নিজের গুলিতে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফুলবাড়ী সীমান্তে নিজের গুলিতে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকায় নিজের ব্যবহৃত সরকারি রাইফেলের গুলিতে মো. নাসিম উদ্দীন (২৪) নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক সদস্য আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গংগারহাট বিওপি ক্যাম্পে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. নাসিম উদ্দীন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাবুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি বিজিবিতে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন এবং তার সিপাহী নম্বর ১১৪৬০৪।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে নিয়মিত সীমান্ত টহলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউনিফর্ম পরিধান করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অস্ত্র বুঝে নেন সিপাহী নাসিম উদ্দীন। এরপর তিনি ব্যারাকের পূর্ব পাশে ক্যাম্পের সীমানার ভেতরে গিয়ে নিজের বুকে নিজেই গুলি চালান।

গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।

তিনি জানান, নিহত নাসিম উদ্দীনের মা ছোটবেলায় মারা যান এবং তিনি চাচার কাছে বড় হন। তার বাবা একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রায় দুই মাস আগে আরও একটি বিয়ে করেন। পারিবারিক এসব বিষয় নিয়ে নাসিম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন।

অধিনায়ক আরও বলেন, পাঁচ দিন আগে তিনি জরুরি ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন এবং মাত্র দুই দিন আগে কর্মস্থলে যোগ দেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় বিজিবির নিজস্ব তদন্ত চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশও আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জনপ্রিয়