খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় জবিতে দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) মসজিদ কমিটির উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি ) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দু‘আ মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন সঞ্চালনায়, খালেদা জিয়ার অবদান ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনা করা যেত না এমনটি বলেছেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম।
দু‘আ মাহফিলের পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় এছাড়াও তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহিয়সী ব্যক্তিত্ব, যার কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও সহজসাধ্য নয়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর অবদান ছাড়া আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনাও করা যেত না। তিনি ছিলেন সততা, ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রতীক এবং আপসহীন সংগ্রামের নেত্রী। দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর করে ঐক্যের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়াকে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়েছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজীবন তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে এক মহাকালের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের শান্তির প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে তাঁর জন্ম, আর সেই শান্তি ও স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা তিনি আজীবন শুধু বাংলাদেশেই নয়, দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বে প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। একজন সাধারণ গৃহবধু থেকে জাতির অভিভাবক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপ্রকাশ ছিল বিরল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, জীবনের অল্প বয়সেই স্বামীকে হারানোর গভীর বেদনা সত্ত্বেও তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন। এক-এগারোর মতো কঠিন সময়েও তিনি শত প্রতিকূলতার মাঝেও এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে যাননি। ব্যক্তিজীবনে অসীম ত্যাগ স্বীকার করে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। সন্তান ও নিকটজন হারানোর শোক বহন করেও তিনি বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ভূমি, জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন। তাঁর এই দৃঢ়তা, ত্যাগ ও দেশপ্রেম জাতির জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এসময় জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তিনি কোনো একটি গোষ্ঠীর নন, বরং সমগ্র জাতির নেত্রী ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে সহনশীলতা, পরিমিতিবোধ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।দু‘আ মাহফিল পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ-ইমাম-কাম-খতিব মোঃ ছালাহ্ উদ্দিন।
এসময় মহিলাদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ক্রীয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ অনেকেই দু‘আ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।



























