শুক্রবার ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ প‌রিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ২ জানুয়ারি ২০২৬

শতকোটি দুর্নীতির অভিযোগ, হলফনামায় ‘বেকার’ মোয়াজ্জেম

শতকোটি দুর্নীতির অভিযোগ, হলফনামায় ‘বেকার’ মোয়াজ্জেম
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণী নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। শত শত কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত এই ব্যক্তি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী হলফনামায় তিনি নিজেকে উল্লেখ করেছেন ‘বেকার’ হিসেবে।

মাগুরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেনের নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। কোনো ধরনের মাসিক আয়, চাকরি, ব্যবসা কিংবা দেশে-বিদেশে আয়ের কোনো উৎসের কথা তিনি উল্লেখ করেননি। আয়ের উৎস সংক্রান্ত ঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ এপ্রিল ক্ষমতার অপব্যবহার, তদ্বির ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর তিনি উপদেষ্টার এপিএস পদ হারান। এরপর থেকেই নিজেকে ‘বেকার’ দাবি করে আসছেন মোয়াজ্জেম হোসেন, যার প্রতিফলন দেখা গেছে তার নির্বাচনী হলফনামায়।

হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের কোনো তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় নিজের নামে দেখানো হয়েছে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। এছাড়া সংসারের খাট, ফ্রিজ, আলমারি, সোফা ও টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

এই সম্পদের বিপরীতে তার পরিশোধিত আয়কর দেখানো হয়েছে মাত্র ৩০২ টাকা, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোয়াজ্জেম হোসেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দরিদ্র কৃষক আজিজার মণ্ডলের ছেলে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় মাস্টার্স পাস। বর্তমানে তিনি স্ত্রী মারিয়া ফেরদৌসী মনিরাকে নিয়ে ঢাকার শ্যামলী এলাকার ‘নবনীড়’ সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। হলফনামায় তার স্ত্রীর পেশা গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, তার কোনো ব্যক্তিগত দেনা নেই এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও তিনি ঋণগ্রস্ত নন।

শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন প্রার্থীর এমন সীমিত সম্পদ ও আয়ের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বিষয়টি।

জনপ্রিয়