আমার ছেলেরে আগুন দিয়া মাইরা ফেলছে
নরসিংদীতে একটি গ্যারেজে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে চঞ্চল ভৌমিক (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তার স্বজন ও সহকর্মীরা। তাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এমনকি গ্যারেজের মালিকও মনে করছেন, পরিকল্পিত না হলেও ঘটনাটি হত্যার শামিল। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না—এটি হত্যা না দুর্ঘটনা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে নরসিংদীর ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি গ্যারেজ থেকে চঞ্চল ভৌমিকের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত চঞ্চল ভৌমিক কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন ভৌমিকের ছেলে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ‘পেট্রল বা দাহ্য পদার্থ ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে পাশাপাশি তিনটি টিনশেড দোকান রয়েছে। মাঝখানেরটি রুবেল মিয়ার গ্যারেজ। দুই পাশের দোকানের একটিতে গাড়ির রংয়ের কাজ এবং অন্যটিতে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করা হয়। তবে গ্যারেজে ভয়াবহ আগুন লাগলেও পাশের দুই দোকানে আগুন ছড়ানোর কোনো চিহ্ন নেই। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা হতে পারে না।
নিহত চঞ্চলের সহকর্মী শান্ত দেবনাথ (২২) জানান, চঞ্চলের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে তিনি কখনো শোনেননি। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি আশপাশ থেকে মবিলমাখা কাপড় ও কাগজ সংগ্রহ করে গ্যারেজের শাটারের সামনে আগুন ধরান। গ্যারেজের ভেতরে আগে থেকেই মবিল ছড়িয়ে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শাটারের ভেতর ঢুকে ঘুমন্ত চঞ্চলের শরীরে লাগে।
গ্যারেজের মালিক রুবেল মিয়া বলেন, “আমি কোনোভাবেই এটিকে দুর্ঘটনা মনে করতে পারছি না। পরিকল্পিত না হলেও এটি হত্যাকাণ্ড। ওই পরিবারে এখন উপার্জনের মতো আর কেউ রইল না।”
চঞ্চলের মা ববিতা ভৌমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেরে আগুন দিয়া মাইরা ফেলছে। ওর তো কোনো শত্রু ছিল না। এখন সংসার চালাইব কে?”
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর আল মামুন বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কাউকে এখনো শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও ডিবি কাজ করছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।



























