কুমিল্লায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বৈষম্য, প্রতিবাদ সাংবাদিক সংগঠনের
আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অথচ ভোটের আগের দিন পর্যন্ত কুমিল্লা কর্মরত সাংবাদিকদের অনেকেই পর্যবেক্ষণ কার্ড পেতে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অনেক সিনিয়র সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড পাননি। যা খুবই দুঃখজনক বিষয়। যেখানে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবাদ কর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সব সময় থাকে, সেখানে সংবাদকর্মীদের এভাবে হয়রানি করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ কর্মীদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণে চরম অনিয়ম ও বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, জেলাজুড়ে ৮৩৩ জন সংবাদকর্মী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড পেয়েছেন। তবে আমরা বিভিন্ন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব লোকদের কার্ড পেতে দেখেছি তা হতাশাজনক। এমন অনেক লোক পর্যবেক্ষণ কার্ড পেয়েছেন, যাদের অতীতে কুমিল্লায় দেখা যায়নি। অনিবন্ধিত, ফেসবুক পেইজের অনেক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড পেয়েছেন, তা কিভাবে সম্ভব হলো, তা বোধগম্য নয়।
কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার ক্ষেত্রে কোন পত্রিকায় চারজন, কোন পত্রিকায় তিনজন আবার কোন পত্রিকায় একজন সংবাদকর্মীকে পর্যবেক্ষণ কার্ড দেয়া হয়েছে। এমন চরম বৈষম্য কেন করা হলো, তা তদন্তের দাবি রাখে।
অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীও কার্ড পেয়েছেন বলে আমরা জেনেছি।
কুমিল্লার মূলধারার অনেক সিনিয়র সাংবাদিক কার্ড পায়নি। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ জাফর সাদিক চৌধুরীকে কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা অনুরোধ করার পরেও তিনি কার্ড বিতরণে বৈষম্যমুক্ত ছিলেন না, যা খুবই দুঃখজনক। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ দুর্ভাগ্যজনক।
কুমিল্লার প্রকৃত সংবাদকর্মীদের সাথে এমন হীন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কুমিল্লার রিপোর্টার্স ইউনিটি, কুমিল্লা সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ, কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, কুমিল্লার রিপোর্টার্স ক্লাব, কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন, কুমিল্লা সাংবাদিক ক্লাব, কুমিল্লা ফটো সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দরা।
কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো: শহীদ উল্লাহ জানান, নির্বাচন কার্ড বিতরণে চরম বৈষমামুলক আচরণ করেছেন জেলা প্রশাসন। খুবই নিন্দনীয় কাজ ।
কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা মুন্সী জানান, প্রকৃত সাংবাদিকদের সাথে বাজে আচরণ করেছেন জেলা প্রশাসন। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং
কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু জানান, অযোগ্য অনেক ব্যক্তিকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণে পক্ষপাতিত্ব, বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের আজ বঞ্চিত করা হয়েছে।
কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান জানান, প্রকৃত সাংবাদিকদের সাথে আজ প্রতারণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রাসেল সোহেল জানান, সাংবাদিকদের সাথে এই হীন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি এমন আচরণ করে থাকে, তাহলে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান জানান, প্রকৃত সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড প্রদান করা উচিত ছিল। এডিএম সাহেব তা না দিয়ে ভুল করেছেন।



























