মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ উধাও

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ উধাও
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালার নামফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতিবিজড়িত এই জাদুঘর কক্ষটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ময়লা রাখার ভাগাড় বা ডাস্টবিন হিসেবে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় ‘পাঁচবিবি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালা’র উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, যুদ্ধের সরঞ্জাম, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এবং দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাদুঘরটি অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি কৌশলে মুছে দিয়ে সেখানে শুধু ‘পাঁচবিবি জাদুঘর সংরক্ষণশালা’ লেখা রয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোর ওপর জমেছে ধুলোর আস্তরণ। কক্ষটির এক কোণে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পৌরসভার অব্যবহৃত জিনিসপত্র।

পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারাসুলপুর ইউনিয়নের আগইর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তা আক্তারসহ অন্যরা বলেন, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির ইন্ধন ছাড়া এমন দুঃসাহস দেখানো সম্ভব নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার মালিদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মণ্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকে ব্যঙ্গ করার চক্রান্তেরই অংশ এটি। যারা আমাদের গৌরবের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ বুলু বলেন, “এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও ঘৃণিত কাজ। কে সরালো, কে নাম কাটল, কার ইন্ধনে হলো—তা জানতে চাই।”

জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম তরফদার রুকু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক থেকে শব্দ মুছে ফেলা নিন্দনীয় অপরাধ। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায় তারাই এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জোবাইদুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলা এবং সেখানে ডাস্টবিন রাখা অত্যন্ত অনুচিত হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নামফলকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম হোসেন বলেন, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছিল না। এটি সংস্কার করে নতুনভাবে ও সুন্দর পরিবেশে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।