আমরা যেন বারবার বাধার শিকার না হই : ভাবনা
বাংলাদেশের অভিনয় অঙ্গনে স্পষ্টভাষী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলাদা করে নজর কাড়েন আশনা হাবিব ভাবনা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভিন্নধর্মী জীবনদর্শন ও সাহসী মত প্রকাশের কারণে তিনি আলোচনায়। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শৈশবের স্মৃতি, জীবনের রূঢ় বাস্তবতা এবং বর্তমান ব্যস্ত ক্যারিয়ার নিয়ে মনখোলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে ভাবনা বলেন, ‘আপনি যখন বড় হতে থাকবেন, আস্তে আস্তে আপনার কাছে জীবনটা পরিষ্কার হতে থাকবে। আর জীবন যখন পরিষ্কার হতে থাকে, তখন মন খারাপ হতে থাকে। ছোটবেলায় সব সত্য মনে হতো, সুন্দর মনে হতো। এখন যা সত্য দেখছি, সেটাও মিথ্যা মনে হয়।’
শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকায় বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া সবাই মিলে বড় ডেকচিতে মুড়ি মাখিয়ে ইফতার করাটা ছিল উৎসবের মতো। ওটার মধ্যে এক ধরনের আরাম আর মনুষ্যত্ব আছে।’ এই স্মৃতিচারণে উঠে আসে সামাজিক বন্ধন ও মানুষের প্রতি মানুষের টান—যা আজকের যান্ত্রিক জীবনে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ‘এক টাকায় আহার’ প্রসঙ্গে নিজের উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে ভাবনা বলেন, শিল্পী বা পরিচিত মুখগুলো এমন উদ্যোগে পাশে দাঁড়ালে সমাজের বিত্তবানরা অনুপ্রাণিত হন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়াকে তিনি নিজের পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার মতোই আনন্দদায়ক বলে উল্লেখ করেন।
শিল্পীসত্তা ও স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে নাচতে চায় সে যেন নাচতে পারে, যে ছবি আঁকতে চায় তাকে যেন সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়। আমরা যেন বারবার বাধার শিকার না হই।’
একই সঙ্গে শিল্পীদের জন্য বড় প্ল্যাটফর্ম এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে ভাবনা জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরে দর্শকদের জন্য নতুন চমক নিয়ে আসছেন তিনি। ঈদে সুমন ধর এবং শাহরিয়ার নাজিম জয়–এর পরিচালনায় দুটি আলাদা ওয়েব ফিল্মে তাকে দেখা যাবে। কাজ দুটি নিয়ে বেশ আশাবাদী এই অভিনেত্রী, আর দর্শকরাও অপেক্ষায় নতুন রূপে ভাবনাকে দেখার।



























