হজ যাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৪০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হজ্ব ফেরত যাত্রীর লাগেজ হারানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে।
শনিবার উপজেলা শহরের কদমতলী মোড় এলাকায় পৌরসভার শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন । বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পৌর এলাকার আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো: গিয়াসউদ্দিনের পরিচালনায় কসবা হজ্ব কাফেলার মাধ্যমে চলতি বছর ওমরা হজ্ব পালনে সৌদিআরব যান শাহপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম নামে এক বৃদ্ধা। হজ্ব পালন শেষে ফিরে আসার সময় মরিয়ম বেগম তার একটি লাগেজ হারিয়ে আসেন। হারানো লাগেজের ফেরত পাওয়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কসবা পৌর শহরে নতুন বাজারের কোঅপারেটিভ মার্কেটে অবস্থিত কসবা হজ্ব কাফেলায় আসেন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয় হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়িত্ব হজ যাত্রীর নিজের। এ নিয়ে হজ্ব কাফেলা প্রতিষ্ঠানের কিছু করার নেই। হজ্ব যাত্রীর মালামালের জিম্মাদার যাত্রীর নিজের। এরপরেও হজ্বযাত্রী যেহেতু এলাকার লোক, লাগেজটির খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করে সহযোগিতার করার কথা জানায় প্রতিষ্ঠান প্রধান মোঃ গিয়াসউদ্দিন।
এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে হজ্বযাত্রী মরিয়ম বেগমের সাথে আসা তার নাতি উত্তেজিত হয়ে লাথি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের দরজার গ্লাস ভেংগে ফেলেন বলে জানান গিয়াসউদ্দিন।
এতে উভয় পক্ষই উত্তজিত হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি সামাল দেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষনিক পরিবেশ স্বাভাবিক হলেও উভয় পক্ষের মধ্যেই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আক্রোশ মেটানোর জের ধরেই শনিবার সকাল ১০টা থেকে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে থাকে।
পরে আনুমানিক ১১ টার দিক থেকে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠি-সোটা,দা, বল্লম, টেটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষকারীরা কিছু দোকানপাট লুটপাট ও ভাংচুর করে। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষের কারনে কসবা টু চৌমুহনী, কসবা টু সৈয়দাবাদ এবং কসবা টু নয়ন পুর ও কুমিল্লার সাথে আঞ্চলিক সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংঘর্ষ থামাতে ও পরিবেশ সামাল দিতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়তে বাধ্য হয়। পরে বেলা ১ টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্হানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উভয় পক্ষই যার যার গ্রামে চলে যায়। তবে এখনো পরিবেশ কিছুটা থমথমে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা জানান, হজ্ব ফেরত যাত্রীর হারানো লাগেজ ফেরত পাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির জের ধরেই দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আজকের এই সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এরপরেও অপ্রীতিকর পরিবেশ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।



























