মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ২০:১৮, ২৭ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটে আইনজীবী হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪

বাগেরহাটে আইনজীবী হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
ছবি: সংগৃহীত

‎বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪২) হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৫০ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এ সময় প্রধান আসামির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আধুনিক ছোরাও উদ্ধার করা হয়েছে।

‎সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শেখ মুরাদ (৪১) আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯) মো. হাফিজুর রহমান (৪৮) এবং মো. শিপন শেখ (২৮)।

‎পুলিশ জানায়, নিহত অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন। গত ২৫ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে আদালতের জরুরি কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। রাত প্রায় ১টার দিকে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী তেঁতুলতলা মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

‎এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার পর রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সদর উপজেলার তেতুলতলা মোড় সংলগ্ন পিসি ডেমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী শেখ মুরাদ। তার কাছ থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আধুনিক ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. নাসের রিকাবদার বলেন,ঘটনার মাত্র ৫০ ঘণ্টার মধ্যেই ডিবি পুলিশের অভিযানে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের মূল নেতৃত্ব দেন শেখ মুরাদ। গ্রেপ্তার আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

‎তিনি আরও বলেন,আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের আশা করা হচ্ছে।

‎উল্লেখ্য, নিহত অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ এলাকার বাসিন্দা এবং বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়