রাবিপ্রবির নবীন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা
নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, নতুন অভিজ্ঞতা এবং অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা শুরু করেছেন তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। দীর্ঘ ভর্তি-যুদ্ধ শেষে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে নানা পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা। তাদের এই স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন সংবাদ পরিক্রমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোঃ ইসমাইল।
ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ,শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, সিনিয়রদের সহযোগিতা এবং নতুন বন্ধুদের সান্নিধ্য ইতোমধ্যেই নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যদিও নতুন শহর, আবাসন এবং পারিবারিক পরিবেশ থেকে দূরে থাকার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাইমুন ইসলাম বলেন,"রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমার স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান লাভ করা। আমি চাই ভবিষ্যতে টেক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সাথে যুক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবো। পাশাপাশি গবেষণা মাধ্যমে নতুন ধারণা ও সমাধান তৈরি করাই আমার লক্ষ্য।প্রত্যাশা থাকে যে শিক্ষক,সহপাঠী ও সিনিয়র থেকে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পাবো। পাশাপাশি ল্যাব এ হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ক্লাব কার্যক্রম এ অংশ নিয়ে নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা।"
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের উপমা তঞ্চঙ্গা বলেন,"পরিবেশকে নতুন করে চেনার,নতুন করে জানার সব থেকে সুন্দরতম একটি সাবজেক্ট হলো ফরেস্ট্রি এন্ড ইনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স। যেখানে জ্ঞানপিপাসুরা জানতে পারেন পরিবেশের ও একটি প্রাণ আছে।রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যেটি লেক,পাহাড়ঘেরা একটি মনোরম পরিবেশ সেখানেই ফরেস্ট্রি এন্ড ইনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।আমার স্বপ্ন কিংবা লক্ষ্য যেটাই বলি না কেন সেটা হলো রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফরেস্ট্রি এন্ড ইনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টকে নতুনভাবে বিশ্বের বুকে পরিচিত করানো।"
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শেখ হাসিব বলেন,"দীর্ঘ এডমিশন সংগ্রামের পর আমি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি।এজন্য সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আলহামদুলিল্লাহ।
আমার পরিবার থেকে আমিই সর্বপ্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি।এজন্য আমি এবং আমার পরিবারের সকল সদস্য অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।এখানে আসার পর যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে, সেটি হলো আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাস।চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা, আর ক্যাম্পাস-সংলগ্ন বিশাল প্রাকৃতিক লেকটি সত্যিই বিরল।বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সহপাঠীর আন্তরিক ব্যবহার আমাকে খুব সহজেই তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।আমার মনে হচ্ছে, আমি এখানে আমার দ্বিতীয় পরিবার খুঁজে পেয়েছি।
আমি এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে এমন একজন দক্ষ ও আদর্শ গ্র্যাজুয়েট হতে চাই,যেটি ভবিষ্যৎ অনুজদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, দেশের সর্বোচ্চ কল্যাণে অবদান রাখবো এবং আমার বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করবো।"
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ওয়াজেদ ইসলাম বলেন,"প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা বাংলাদেশের অন্যতম নান্দনিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত, আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার স্বপ্ন পূরণের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।আমি বিশ্বাস করি, এখানে অর্জিত শিক্ষা,নৈতিক মূল্যবোধ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাকে একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নিজের জ্ঞান, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ করতে চাই।
আমার লক্ষ্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন নয়; বরং নিজেকে এমন একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা,যে কিনা দেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং জাতির অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।"
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সায়মা খানম ফিমা বলেন,"এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে জ্ঞানের পাশাপাশি নেতৃত্ব, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের ৭ম ব্যাচ একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করবে।ইনশাআল্লাহ, আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেশ-বিদেশে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরব।"
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তিনা ত্রিপুরা বলেন,"প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমার মহান সৃষ্টিকর্তাকে, যিনি আমাকে এই সাফল্য পেতে সাহায্য করেছে।আর এই সাফল্য শুধু আমার জন্য নই আমার পরিবার,পরিজন এবং আমার শিক্ষকদের সবার জন্যই আজ আমি এতো দূর আসতে পেরেছি। আমি আশা রাখছি আমি সফলভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে নিজেকে দেশের দশের একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো এবং প্রতিনিয়ত আমি তা চেষ্টা করে যাবো।নিজেকে দক্ষ ভাবে গড়ে তুলতে পারলে আমি সমাজ ও দেশের সেবার কাজ করতে পারবো যা আমার জন্য গৌরবের এবং আনন্দের।পরিশেষে আমি প্রত্যাশা করবো এই কাজে আমাকে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক আর বড় আপু ভাইয়ারাও সাহায্য করবেন এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে আমাকে সঠিক পথ দেখাতে সহযোগিতা করবেন।"



























