বুধবার ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৩, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের সময় তিন গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার

সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের সময় তিন গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিন গণমাধ্যমকর্মী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে আন্দোলনকারীদের দ্বারা এই হামলার শিকার হন তারা।

হামলায় আহতরা হলেন—স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন এবং ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন।

হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সকালে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে যান তারা। এসময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের বক্তব্য গ্রহণের পর ওই স্থান থেকে কিছুটা এগিয়ে ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহের সময় আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে মাস্ক পরিহিত একদল ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তাদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।

এ সময় হামলাকারীরা তিন গণমাধ্যমকর্মীকে লাঠি ও ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে আশপাশ থেকে কয়েকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের বুঝিয়ে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে আহত অবস্থায় তারা ওই স্থান ত্যাগ করেন।

আহত আহমাদ সোহান সিরাজী বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অযথাই কয়েকজন আমাদেরকে মারধর করেন। তাদের অনেকে মাস্ক পরা ছিল। তাদেরকে শ্রমিক মনে হয়নি এবং শুরু থেকেই আচরণ ছিল মারমুখী। চলে আসার চেষ্টা করলে তারা আমাদের পিছু নেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া করে মারধর করেন।”

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, “সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় একসঙ্গে ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক দুই পাশ থেকে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ প্রতিরোধ করে। এসময় আন্দোলনকারীরা সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেন। আন্দোলনকারীদের হামলায় ওসি গুরুতর আহত হন।”

সাভারে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুন বলেন, “এখানে আমাদের তিন প্লাটুনের মতো সদস্য মোতায়েন হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায়, আশুলিয়াতেও আছে, সাভারেও আছে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের আসলে কোনো লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই, তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এখানে খুব বেশি শ্রমিক নেই। অধিকাংশই মিসক্রিয়েটর, যারা সমস্যা সৃষ্টি করছে। যারা সমস্যা করছে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছি।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়