শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩৪, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যাংকে ২ হাজার ৮১৪ কোটি

ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যাংকে ২ হাজার ৮১৪ কোটি
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে মোট প্রায় ২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১২৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পিরোজপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলাগুলোর তদারককারী কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিরাজুল ইসলাম ইফতি ইটিসিএল, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক। তার নামে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, ব্যাংক সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার এবং ৯টি গাড়িসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি। অথচ তার বৈধ আয় হিসেবে পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

এছাড়া তার ৯টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকার বেশি জমা এবং প্রায় সমপরিমাণ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবেও ১২২ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দুদক।

উল্লেখ্য, এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের করা আরও আটটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।