শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার পরিকল্পনা জেলেনস্কির

প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার পরিকল্পনা জেলেনস্কির
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন এক ধরনের কৌশলগত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি ভাঙতে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে হত্যা বা অকার্যকর করা গেলে যুদ্ধের গতিপথ বদলানো সম্ভব হবে।

সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা নিয়োগের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য। তার মতে, রুশ বাহিনীর ক্ষতির হার যদি নিয়োগের হারকে টপকে যায়, তাহলে ক্রেমলিন শেষ পর্যন্ত শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।

জেলেনস্কির দাবি, গত বছরের শেষ দিক থেকেই রুশ বাহিনীর ক্ষতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে হলে এই সংখ্যাকে মাসে ৫০ হাজারে উন্নীত করাই সবচেয়ে কার্যকর মাত্রা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যান কোনো স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ড্রোন প্রযুক্তি। জেলেনস্কি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাত হানা লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৮০ শতাংশই ড্রোনের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং ড্রোন উৎপাদন দ্রুত করতে সম্প্রতি প্রযুক্তিবিদ মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন অপারেটরদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ পয়েন্ট সিস্টেম ও আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা, যাতে তারা আরও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে উৎসাহিত হন।

অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল বাস্তবায়নের মধ্যেই ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক হামলার ফলে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে, আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো কোনো বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, শুধু ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় শেষ—রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে এখন প্রয়োজন আরও কঠোর ও সরাসরি প্রতিরোধ।

সূত্র: আল জাজিরা