তীব্র শীতে স্থবির পঞ্চগড়ের জনজীবন
হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ায় শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আজ সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। টানা তিন দজন ধরে এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে
এদিক গতকাল শনিবাবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরার কারণে তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে এবং এর ফলে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কনকনে ঠান্ডায় মানুষজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিভিন্ন মোড়ে ও চায়ের দোকানের পাশে শীত নিবারণের জন্য আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন শীতার্ত মানুষ। হাসপাতালগুলোতেও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
জেলার সদর উপজেলার গোয়াঝাড় এলাকার চা শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোরে প্রচণ্ড হিমশীতল বাতাসের মধ্যেই চা বাগানে পাতা তুলতে হয়। এতে হাত-পা অবশ হয়ে আসে, তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
ভ্যানচালক নয়ন আলী বলেন, সকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।



























