শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০৬, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুড ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬

তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুড ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুড সিস্টেমস চ্যালেঞ্জ–২০২৬। ওয়াগেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ (ডব্লিউইউআর) এবং নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ (এনএফপি) যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

এই চ্যালেঞ্জের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় খাদ্য ব্যবস্থার ভেতরে প্রকৃতি-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি ও বাস্তবায়ন করা, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন ও প্রশমন, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি এ প্রতিযোগিতার বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩ মার্চ। আগামী ২৪ মার্চ নির্বাচিত দলগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত দলগুলো মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজ নিজ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করার সুযোগ পাবে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন শহরে।

এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করতে পারবেন যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের সদ্য স্নাতকরাও অংশ নিতে পারবেন, তবে প্রতি দলে একজনের বেশি সদ্য গ্র্যাজুয়েট রাখা যাবে না। যারা ২০২৫ সালের চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছেন, তারা ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না।

তিনি আরও জানান, 'প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৪ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে দল গঠন করতে হবে। চাইলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিশ্র দল করা যাবে, তবে শর্ত হলো—দলের অন্তত দুইজন সদস্যকে অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত দুইজন সদস্যকে সরাসরি প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থাকতে হবে।'

এছাড়াও তিনি জানান, 'এই প্রতিযোগিতায় কোনো নিবন্ধন ফি নেই। নির্বাচিত দলগুলো তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১,০০০ ইউরো আর্থিক সহায়তা পাবে।'

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মাত্র আটটি দেশ নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ১৬টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সুরিনাম, উগান্ডা, সেনেগাল, বেনিন ও ভিয়েতনাম।